স্বামী-শ্বাশুড়ির দেওয়া আগুনে পুড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

গাইবান্ধা সদরের কাবিলের বাজারে স্বামী-শ্বাশুরী দেওয়া আগুনে পুড়ে শারমিন আক্তার (২৭)  নামে এক  গৃহবধূর  মৃত হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাহফুজার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান এর চারদিন আগে  স্বামী-শ্বাশুরীর দেওয়া আগুনে ওই গৃহবধূর শরীর দগ্ধ হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ওই হাসপাতালেনেয়া হয়। এর আগে  সদর উপজেলার কাবিলের বাজার এলাকায় পারিবারিক কলোহের জের ধরে শারমিনের শরীরে আগুন দেয় স্বামী- শ্বাশুরী। গৃহবধূ শারমিন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাবিলের বাজার এলাকার কোরবান আলীর স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে কাবিলের বাজার এলাকায় ইসমাইল হোসেনের ছেলে কোরবানের সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিনের। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ নানা কারণে শারমিনকে নির্যাতন করত স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। সেসময় ভুক্তভোগী গৃহবধূ শারমিন জানান, মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিটের পর তার শরীরে গ্যাস লাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী কোরবান আলী ও শাশুড়ি কুলছুম বেগম।

দিনভর যন্ত্রণায় কাতরালেও তাকে নেওয়া হয়নি হাসপাতালে। যন্ত্রণায় গলা শুকিয়ে এলেও দেওয়া হয়নি এক ফোটা পানি। তাকে হাসপাতালে না নিয়ে ঘরবন্দি করে রেখে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান অভিযুক্তরা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাবার বাড়ীর লোকজন এসে দিন গত রাত নয়টারদিকে শারমিনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়। আগুনে গৃহবধূ শারমিনের শরীরের ৮৫ ভাগ ঝলসে যাওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মজিবর রহমান জানান শারমিনের শরীরে আগুন দিয়ে ঝলসানোর ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বুধবার ২৪ মার্চ দুপুরে গৃহবধূর স্বামী কোরবান ও শ্বাশুড়ী কুলসুমকে আসামী করে গাইবান্ধায় থানায় মামলা করলে অভিযান চালিয়ে কাবিলের বাজার এলাকার একটি বাড়ী থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বাশুড়ী কে গ্রেফতার করেন।

শর্টলিংকঃ