সেই বিতর্কিত এএসপি বাবুল আখতারকে বদলি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বাবুল আখতারকে অবশেষে জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। বুধবার তিনি তাহিরপুর সার্কেল অফিস ত্যাগ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে বরিশাল রেঞ্জের মেহেন্দিগঞ্জ সার্কেল অফিসে তাকে ২২ আগস্ট তাকে বদলি করা হয়।
২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর এএসপি মো. বাবুল আখতার সিলেট রেঞ্জের সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সার্কেল অফিসে যোগদান করেন।
যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

আর্থিকভাবে প্রভাবিত হয়ে স্বপন কুমার দাস ও রিয়াজ উদ্দিন নামে তাহিরপুরের দুই কয়লা আমদানিকারকে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ান বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

এরপর এক গৃহবধূকে স্বামীর সামনে যৌন হয়রানি ও অপহরণচেষ্টার ঘটনায় ভিকটিমের দেওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে অভিযুক্তদের উল্টো নির্দোষ দাবি করে বিতর্কের জন্ম দেন এএসপি বাবুল আখতার।

এছাড়া তাহিরপুরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের জাদুকাটার নদীর খনিজ বালু পাথর নিলামের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কোনো রকম রাজস্ব, আয়কর ভ্যাট ও সরকারি মূল্য ছাড়াই অতিরিক্ত খনিজ বালু পাথর সরিয়ে নিতে সহায়তার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।

পরপর দুটি অপহরণ মামলায় একটিতে বাদী ও অপর একটি মামলার আসামি পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠে বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে। থানা এলাকার ভোক্তভোগীদের অভিযোগ পরবর্তী বিভিন্ন মামলায় তদন্তকাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ করে প্রভাবশালীদের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার এককের পর এক নজির স্থাপন করে গেছেন এএসপি। এসব কারনে চাকুরি বিধি লঙ্গন ও বিভাগীয় শাস্তির ভয়ে পুলিশের একাধিক সদস্য তার দ্বারা অশ্লীল গালিগালাজ, অসদাচারন ও আর্থীক চাপে পড়লেও মুখ খুলতে নারাজ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ও বুধবার রাতে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সুত্র ও সরকারের দায়িত্বশীল অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থা এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে আরও জানায়, তাহিরপুরের বালিজুরী এলাকার ভারতীয় বিড়ি, মাদক, গবাদি পশু চোরাকারবারি সোহাগ নামে এক আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে পুলিশের অন্য একটি সংস্থার মাধ্যমে মামলাটির তদন্তভার হস্তান্তর করাতে বাধ্য করেন।

এমন নানা কর্মকান্ডে তাহিরপুর থানা এলাকায় এএসপি বাবুল আখতারকে নিয়ে জনমনে বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর সরকারের উচ্চ পর্যায়ে থাকা একটি গোয়েন্দা সংস্থা তার ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন পাঠায় সরকারের ওপর মহলে।

শর্টলিংকঃ