সাম্য হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ নিহতর পরিবার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকারের একমাত্র ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র আশিকুর রহমান সাম্য হত্যা মামলার রায়ে তিন আসামীকে মৃত্যুদন্ড এবং অন্য আট আসামীকে ৫ বছর করে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে আট আসামীর প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ দীলিপ কুমার ভৌমিক এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, শাহারিয়ার সরকার হৃদয়, রাকিবুল হাসান সজিব ও মাহামুদুল হাসান জাকির প্রধান। এদের মধ্যে হৃদয় ও জাকির নিহত সাম্যর সহপাঠী। দন্ডপ্রাপ্ত অন্য আট আসামী হলেন, মাসুদ প্রধান সুজন, আল-আমিন ইসলাম, রাবেয়া বেগম, শিমুল মিয়া, আল আমিন, রুনা বেগম, জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন। এরা সবাই গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা।

তবে মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবি শফিকুল ইসলাম শফিক ও নিহতের পিতা। নিহত সাম্য’র বাবা আতাউর রহমান বলেন, আসামী ১১ জনই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল দোষীরা প্রত্যেকেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। কিন্তু রায়ে তা না হওয়ায় আমরা ন্যাবিচার পাইনি। তাই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

গত ৬ জানুয়ারী উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের দিন ধার্য করে আদালত। এমামলায় আদালতে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানী হয়। প্রায় সাড়ে চার বছর মামলার বিচারীক কার্যক্রম চলে।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের ছেলে সাম্যকে ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে অপহরণ করা হয়। পরদিন উপজেলার বর্ধনকুঠি বটতলার কমিউনিটি সেন্টারের সেপটিক ট্যাংক থেকে সাম্য’র হাত-পা বাঁধা বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যা ঘটনায় ৯নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামী করে সাম্যের সহপাঠীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন সাম্য’র বাবা। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১১ মার্চ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ।

শর্টলিংকঃ