সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ॥ মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসাসেবা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সহ ৪৮টি পদ শূণ্য থাকায় মুখ থুবড়ে পড়েছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। মাত্র মেডিকেল অফিসার দ্বারা চলছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে দারুন ভাবে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ জনসাধারণ।

সূত্রমতে, সাঘাটা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবার জন্য সরকারী ভাবে একমাত্র মাধ্যম সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিগত ১৯৮৭ইং সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলেও অদ্যবধি বরাদ্দকৃত পদে চিকিৎসকের পদ পূরণ কখনো হয়নি। চিকিৎসকের পদ শূণ্য থাকতে থাকতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, এখন চিকিৎসা সেবার মানই শূণ্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে।

এই হাসপাতালে কনসালটেন্ট সহ ৯ জন এবং ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১০ জন সহ ১৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ও একজন মেডিকেল অফিসার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের ২জন মেডিকেল অফিসার সহ ৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছে। মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার দ্বারা চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনসাধারণের অভিযোগ কর্মরত চিকিৎসকরাও প্রতিনিয়ত আসেন না।

অপরদিকে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এনেচ), ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার ৭ জন এবং সহকারী সার্জন (ইউএসসি) ৮ জন মিলে ১৫ জন এবং এস.এন.এস ১ জন, সহকারী নার্স ১ জন, এম.টি (ল্যাব) ১ জন, এম.টি (রেডিও) ১ জন, ফার্মাসিষ্ট ১ জন, স্যাকমো (ইউএইচসি) ১ জন, স্যাকমো (ইউএসসি) ৭ জন, ষ্টোর কিপার ১ জন সহ স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১ জন, ড্রাইভার ১ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ৯ জন, নৈশ প্রহরী ১ জন, বাবুর্চি ১ জন, এম.এল.এস.এস ২ জন, পরিচ্ছন্ন কর্মী ২ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন সহ সর্বমোট ৪৮ জন চিকিৎসক-কর্মচারীর পদ শূণ্য রয়েছে বছরের পর বছর।

তেমনি হাসপাতালটিতে রয়েছে নানাবিধ সমস্যাও। ওয়ার্ডগুলো সময়মত পরিষ্কার করা হয় না। বিশুদ্ধ পানির সমস্যা লেগেই আছে। জেনারেটর থাকলেও জ¦ালানী ব্যয়ের বরাদ্দ নেই। ইসিজি মেশিন, এক্স-রে মেশিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও তা আজও ব্যবহার হয় নি। জরুরী বিভাগ থাকলেও জনবল অভাব এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। প্যাথলজিক্যাল বিভাগে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা হয় না। অতি পূরাতন এম্বুলেন্স দিয়ে রোগী পরিবহন করা হয়। তা আবার বিকল হয়ে মাঝে মধ্যেই পড়ে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার জন্য আলাদা কোন যানবাহন নেই। ৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। সংষ্কারের অভাবে হাসপাতালের দুটি ভবন এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। এ কারণে প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে এসে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না।

এ উপজেলার কঠিন, জটিল ও নিয়মিত রোগীরা চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে। শিশু ও মহিলাদের চিকিৎসা, এম.আর, ডি.এন.সি এবং প্রসবকালীন সেবা এ হাসপাতালে একেবারেই হয় না। ডায়রিয়া-কলেরা রোগী ছাড়া এ হাসপাতালে অন্যকোন রোগী ভর্তি হয় না। বহি:বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার রোগীরাই বেশি।

এদিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীত করণের লক্ষ্যে ২০১১ইং সালে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুদ পারভেজ জানান, হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত ঔষধ বরাদ্দ আছে। চিকিৎসক-কর্মচারী সংকটের বিষয়ে বহুবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের পদ গুলো আজও পূরণ করা হচ্ছে না। এ কারণেই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে

শর্টলিংকঃ