সাংবাদিককে মারধর

আনসারের দুই সদস্য প্রত্যাহার তদন্ত কমিটি গঠন

দেশ রূপান্তরের ফটো সাংবাদিক রুবেল রুশিদকে মারধরের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পাশাপশি মারধরের সঙ্গে জড়িত জড়িত দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার রাতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহনাস তাবাসসুম রেবিন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঘটনাটি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অবহিত হলে জড়িত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ এর নির্দেশে পরিচালক ও জোন অধিনায়ক, ঢাকা মহানগর আনসার (পূর্ব জোন) তাৎক্ষণিকভাবে দুইজন আনসার সদস্যকে ক্লোজ করেন এবং তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে জড়িত আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাহিনীর কোন সদস্য সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যাদের প্রতি বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য মাকে নিয়ে রাজধানী ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুগদার দক্ষিণ মান্ডা এলাকার শাওন নামের এক যুবক। সেখানে ভোর ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়ান শাওন ও শাওনের মা। ক্রমিক নং অনুযায়ী তার সিরিয়াল নং-৩৬।
মুগদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য ১০০টি টোকেন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি বুথের ও ৫০টি হাসপাতালের জন্য। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক পরীক্ষা হয়ে গেছে। আজ আর পরীক্ষা হবে না। তখন শাওন বলেন, আমরা তো ৩৬ নম্বরে, এখনো পরীক্ষার অনুমতি পেলাম না। এ নিয়ে শাওন ও কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ড শুরু হলে শাওন ‘অকথ্য ভাষায়’ আনসার সদস্যদের গালিগালাজ করে।
এ সময় সেখানে দায়িত্বরত এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার মো. জয়নাল শাওনকে গেটের ভিতরে নিয়ে যান এবং আনসার সদস্যদের গালিগালাজের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন সেখানে উপস্থিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ২ জন ফটো সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে আনসার সদস্যরা ছবি না তোলার ‘অনুরোধ’ জানান। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ‘সামান্য হাতাহাতি’ ঘটে। যা অনভিপ্রেত।

শর্টলিংকঃ