সেবার নমুনা

রামেক হাসপাতালের টিকিট মিলছে কালোবাজারে

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১০ টাকার টিকিট কালোবাজারে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দালাল আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখে সেগুলো কালোবাজারে বিক্রি করছে বেশি দামে। এ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে কাউন্টারের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুরে ১টা পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শন করে রামেক হাসপাতালের বর্হিবিভাগের এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ওইদিন পুরুষ কাউন্টারে ২৬৩ টি টিকিট বিক্রি হয়। আর নারীদের জন্য মেডিসিন বিভাগের ৩৩৯ টি টিকিট বিক্রি হয়। তবে কাউন্টারের বাইরে থেকে আরো অন্তেত শতাধিক রোগীর জন্য টিকিট সংগ্রহ করা হয় ৫০ টাকা করে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনরা কাউন্টারের বাইরে থেকেই বেশকিছু টিকিট উচ্চ মূল্যে বিক্রি করতে দেখা যায়।

জানা গেছে, সেবা পেতে বহির্বিভাগে রোগী ও রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। ঘন্টার পর ঘন্টা মহিলা কাউন্টারের রোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন টিকেটের জন্য। কিন্তু কাউন্টারের পেছনের জানালা দিয়ে দশ টাকার পরিবর্তে বাড়তি টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে টিকেট। কয়েকজন দালাল এই টিকিটগুলো সংগ্রহ করে রোগী ও স্বজনদের কাছে ৫০ টাকায় বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছেছ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দুপুর ১টা পর্যন্ত কাউন্টার থেকে বর্হিবিভাগের টিকিট বিক্রি হয়। তবে দুপুর ১ টার আগেই টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু তখনো লাইনে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনা টিকিটের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তাদের মধ্যে বেশি ভাগ রোগী মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আর গাইনী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। শিশুদের জন্য অনেক অভিভাবককে দেখা যায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে।

চিকিৎসা নিতে আসা বাগমারা এলকার জাবেদা বেগম বলেন, দুপুর ১২টার দিক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভিড়ের কারণে টিকিট নিতে পারেনি। ১টার বাজার আগেই কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হলো। কিন্তু দেখছি কেউ কেউ ৫০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করছে। কিন্তু অতিরিক্ত টাকার অভাবে অসুস্থ শিশুর জন্য টিকেট নিতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে শুধু বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজি ভাড়া আছে। এ কারণে বেশি দামে টিকেট কিনতে পারিনি।’ এদিকে টিকিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শিশু কন্যার জ্বর-স্বন্দির চিকিৎসা না করিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

আরেক রোগীর স্বজন জানান, ‘আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ আমাদের বাদ দিয়ে জানালা দিয়ে টিকেট বিক্রি করা হচ্ছিল কাউন্টার থেকে। দালালরা ওই টিকিট নিয়ে পরে ৫০ টাকা করে বিক্রি করছিল। এ কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট পাইনি। আমার মতো অনেকেই লাইনে থেকেও টিকিট পাইনি।

পবা এলকার আয়েশা বেগম নামের আরেক জন জানান, তার তিন বছরের মেয়ের ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছে। চিকিৎসার জন্য এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট নিতে পারেননি তিনি। পরে ১০ টাকার টিকেট ৫০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হোন।

আরো খবর পড়ুন : ইসরাইলের সঙ্গে জর্ডানের সম্পর্কের টানাপোড়া চলছে

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝেই এই বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসি। এখানে যারা আসে সেসব রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই গরিব শ্রেণির। তারা যে যার মতো করে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের মতো এই গরিব লোকদের সঙ্গে অসাদাচরণও করে থাকেন কাউন্টারের লোকজন। কিন্তু দালালের কাছে তারা ঠিকই টিকিট বিক্রি করে ভিতর থেকে। এ কারণে রোগীরা সহজে টিকিট পাই না।’

রামেক হাসপাতালের টিকিট ইনচার্জ নুর মোহাম্মদ টিকিটের এই বাণিজ্যের কথা স্বীকার করে বলেন, এক শ্রেণির দালাল মেডিসিন বিভাগের শিশু ও নারীদের টিকিট কিছু বেশি দামে বিক্রি করছে। এসব নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশের নজরদারি থাকলে দালালরা রোগীর স্বজন বেশে টিকিট নিয়ে সেগুলো আর বাইরে বিক্রি করতে পারবে না।’

আরো খবর পড়ুন : মালদ্বীপকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশর মেয়েরা

শর্টলিংকঃ