চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বৃদ্ধি

রাজশাহীতে পাটের দাম না পেয়ে বিপাকে কৃষক

এবার চাহিদার তুলনায় পাটের উৎপাদন বেড়েছে রাজশাহী জেলায়। কিন্তু আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার পাট চাষিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৫৯৮ হেক্টোর জমিতে।গত বছর পাটের আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ৭২৫ হেক্টোর জমিতে। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৮ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে বেশি পাটের আবাদ বেশি হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপলোর কৃষক মতিউর রহমান বলেন, শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাট বিক্রি করে কিছুই থাকছে না কৃষকের। শ্রমিকদের দু’বেলা খাবার দিয়ে একজন পাট ধোয়া শ্রমিকের মজুরি সাড়ে ৫শ’ টাকা। সারা দিনে একজন শ্রমিক ১৮ থেকে ২০ বিড়া পাট ধুতে পারে। পাটের দাম কম হবার কারণে অন্যান্য খরচাদি দিয়ে কৃষকের মুনফা হচ্ছে না।

তানোর উপজেলার কয়েকজন পাট চাষি বলেন,‘এবারে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ বাবদ বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যা, পচানী দিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পাট ছিলা ও রোদে শুকিয়ে তা ঘরে তোলা পর্যন্ত ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হছে।’

তার মতে, কেনা বেচার শুরুর দিকে মানভেদে পাটের দর প্রতি মণ ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে আরো কমেছে। পাটের দাম কম হয়ায় উৎপাদন খরচ উঠছেনা। কৃষকদের দাবি ধানের মত পাটের বাজারও সিন্ডিকেটের দখলে চলে যাওয়ার লোকশান গুণতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারি ভাবে পাটের দাম নির্ধারন ও পাট ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহনের দাবী জানান।

পাট একটি পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদ আখ্যায়িত করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুম হক বলেন,‘জেলায় এবারে পাটের আবাদ বেড়েছে। বর্তমান বাজারে লোকসান হওয়ার কথা নয়। এছাড়াও ফসলের মূল্য কমবেশী বাজার মনিটরিং কর্মকর্তাগণ দেখভাল করছেন।’

শর্টলিংকঃ