আখের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে চাষীদের

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর সুগার মিলে চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে মিলের আওতাধীন তিন জেলার আখ চাষীরা আখ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এই চাষীদের আখ ক্রয় করে জয়পুরহাট সুগার মিলে পাঠানো হবে। কিন্তু এখনও আখ ক্রয় শুরু না হওয়া এবং ভবিষ্যতে আখ চাষীদের কি হবে এই চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে চাষীদের।

রংপুর সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, এই মিলের আওতায় গাইবান্ধা, বগুড়া ও রংপুর জেলার পাঁচ হাজার ৪১৮ জন আখ চাষী আছেন। চিনিকল থেকে তারা কৃষি ঋণ পেয়ে থাকেন। বর্তমানে এই ঋণের পরিমান তিন কোটি ৫২ লক্ষ টাকা।

রংপুর আখ চাষী কল্যাণ গ্রæপের সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান বলেন, বর্তমানে জমিতে যে আখ আছে তা পাশর্^বর্তী জেলা জয়পুরহাটের সুগার মিলে সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে রংপুর সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া হবার কারণে মাঠের আখ শুকিয়ে ওজন কমে চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। জমিতে দন্ডায়মান ৫৫ হাজার মেট্রিক টন আখ নিয়ে চাষীরা এখন শংকায় আছেন। রংপুর সুগার মিল চত্বরে আখ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ছিল কিন্তু এখনও তা শুরু হয়নি। জয়পুরহাটে পাঠাতে যে লম্বা সময় লাগবে তাতে আখের ওজন কমে যে ক্ষতি হবে সেই ক্ষতিপূরনও আমরা দাবী করি। তবে মিল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বর্তমানে কোন পাওনা নেই বলে জানান তিনি।

মহিমাগঞ্জের আখ চাষীরা জানান, মিল যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে তারা মহা বিপদে পড়বেন। ১৯৫৬ সাল থেকে তারা বংশানুক্রমিকভাবে আখ চাষ করায় অন্য কোন চাষে তাদের দক্ষতা নেই। আবার বর্তমান বছর অন্য মিলের জন্য আখ কেনার কথা বললেও পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়া সরকার চালু রাখবে না বলে তারা সন্দেহ করছেন।

রংপুর সুগার মিলের উপ-ব্যবস্থাপক ( ইক্ষু সম্প্রসারণ) মো. মাহবুবার রহমান বলেন, আখ মাড়াই বন্ধ নিয়ে শ্রমিক কর্মচারিরা কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করতে থাকায় আখ ক্রয় শুরু করা যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আখ ক্রয় শুরু হবে, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

শর্টলিংকঃ