যমুনার ভাঙ্গনে বিলিন সাঘাটার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়

গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমার সাথে সাথে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।  গত ২৪ ঘন্টায় ভাঙ্গনে যমুনার বিলিন হয়েছে সাঘাটার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়। হুমকীর মুখে নদী এলাকার প্রায় দুইশতাধিক ঘরবাড়ী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ির এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, যমুনার অব্যাহ ভাঙ্গনে কয়েকদফা ঘরবাড়ী সরিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাদিয়াখালী রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেই। কিন্তু সেখানেও তার শেষ ঠাঁই হয়নি। অবশেষে দুই সন্তান ও স্ত্রীসহ ঠাঁই নেই শ্বশুর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ধুন্দিয়া গ্রামের বৃদ্ধ আবুল হোসেনের বাড়ীতে। সে বাড়ীটিও এখন কাটাখালী নদীর হুমকীর মুখে।নদী থেকে আবুল হোসেনের বাড়ীর দুরত্ব প্রায় ৫ গজ। এটুকু ভেঙ্গে গেলেই থাকবেনা তার শেষ সম্বল মাথা গোঁজার ঠাঁই। গত এক সপ্তাহে কাটাখালী নদীর অব্যাত ভাঙ্গনে ধুন্দিয়া ও তালুক সোনাইডাঙ্গা গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবার বিলিন হয়েছে।গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মবর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোকে আপাতত গুচ্ছগ্রামে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের ত্রাণ অব্যাহত রয়েছে।

আবুল কাশেম নামে সাঘাটার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক জানান  গত ২৪ ঘণ্টার ভাঙ্গনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠসহ দুইটি শ্রেণিকক্ষ যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী যেভাবে ভাঙ্গছে তাতে যে কোন সময় পুরো ভবনটি বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ভাঙ্গনের কারণে এলাকার দুইশতাধিক পরিবার গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কা করেছেন তিনি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার নদী ভাঙন রোধে শিঘ্রই কাজ শুরু করা হবে । তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমে ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপৎসীমার ৬৯ সে.মি ওপর ও ঘাঘটের পানি ৭ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা, যমুনা, কাটাখালী ও করতোয়ার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শর্টলিংকঃ