মেয়রের কর্মকান্ডে মুগ্ধ পৌরবাসী

ঘড়ির কাটায় তখন রাত ১১ টা ৪০ মিনিট। হঠাৎ এক প্রতিবেশির ফোন, কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছে করোনার কারনে বেশ কিছুদিন কর্মহীন থাকায় সংসার চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। জানতে চাইলেন যে,মানুষের মুখে শুনেছেন পৌরসভার মেয়রকে ফোন করলে সহযোগিতা পাওয়া যায়,আর সেটা কাউকে জানানো হয়না, এই বিষয়টা সঠিক কি না ? বললাম ঠিকই শুনেছেন। জবাব শুনে আবারও জানতে চাইলেন ফোন করবেন কিনা ? বললাম নি:সংকোচে ফোন করেন,কোন সমস্যা নেই। এরপর একঘন্টা পর ওই প্রতিবেশি আবারও ফোন করে জানালেন, তিনি মেয়রকে ফোন করেছিলেন। খুব আশ্চর্য হয়েছেন যে মেয়র নিজেই গাড়িতে করে এসে তাঁকে চাল,ডাল,আলু,তেল দিয়ে গেছেন আর বলেছেন সমস্যা হলে যেন তাকে আবার জানানো হয়। করোনাকালে খাদ্য সহায়তা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র মিলন।

এতক্ষন যে মেয়রের কথা বলছিলাম,তিনি হলেন গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন। করোনা সংকটের শুরু থেকে গাইবান্ধা পৌর এলাকার মানুষের পাশে সাধ্যমতন সার্বক্ষনিক পাশে থাকবার আপ্রান চেষ্টা করে গিয়েছেন যিনি।জীবনের ঝুকি নিয়ে যিনি দিনরাত ছুটে বেড়িয়েছেন। বলতে গেলে নিজের কোন সমস্যা হতে পারে তা তিনি একেবারেই ভাবেননি।

রাতদিন পরিশ্রম করে মাঝে মাঝেই অসু¯থ বোধ করলেও মানুষের প্রতি ভালবাসার টানে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। একপর্যায়ে পৌর মেয়র নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তারপরেও চুপ থাকেননি তিনি। ফোনে সবসময় খোঁজখবর রাখতেন কোথায় কি সমস্যা। মানুষকে ভালবাসার প্রতিদানও তিনি পেয়েছেন। তাঁর করোনা আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়লে ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেনীর মানুষ মেয়র মিলনের সুস্থতা কামনায় মসজিদ,মন্দিরে দোয়া-প্রার্থনা করেন। অনেকে রোজা রাখেন ,উপোষ থাকেন।

এরই মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আঘাত হানে বন্যা। পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা বন্যাআক্রান্ত হয়ে পড়ে। করোনা মুক্ত হয়ে বরাবরের মতো সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনে আবারও বানভাসীদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন মানবিক সেবায়।
গত ২০১৯ সালের ভয়াবহ বন্যার সময়ও প্রতিটি মুহুর্ত পাশে থেকেছেন বন্যাআক্রান্ত মানুষের পাশে। বন্যার পানির ঢল তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। নিজেই হাটু পানিতে নেমে মানুষের ঘরে-ঘরে পৌছে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তা। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডেই জন্য খুলেছিলেন ১৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র। সেসব আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় ৪ হাজার জন মানুষের মধ্যে প্রতিদিন দুই বেলা করে রান্না করা খাবার তুলে দেয়া হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেে সেসময়।

জানা জায়, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র এ্যাড.শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন,বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম স্পীকার মরহুম এ্যাড.শাহ্ আব্দুল হামিদের নাতি,গাইবান্ধা -৪ আসনের (গোবিন্দগঞ্জ) সাবেক এমপি মরহুম এ্যাড.শাহ্ জাহাঙ্গীর কবীরের ছেলে, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক,সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য এবং বর্তমানে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব নিরলসভাবে ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।

সার্বক্ষনিক মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই মানুষটি দলীয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক পদবীর চাইতে সম্পর্কের সম্বোধনে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। আর সে কারনেই তিনি বয়োজেষ্ঠদের কাছে পরম স্নেহের আর ছোটদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। শৈশব থেকে রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়ে ওঠা এই মানুষটির শিষ্টাচার,নম্রতা সকল বয়সের মানুষকেই কাছে টেনেছে। মানুষের যে কোন সমস্যা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে কথা বলবার জন্য গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়রের দুয়ার সকলের জন্য সব সময় খোলা।

শর্টলিংকঃ