মৃত্যু নবজাতকের সঙ্গী হলেন পরিবারের ৬ সদস্য

মৃত্যু নবজাতকের সঙ্গী হয়েছেন বাবা, মা ও দাদিসহ পরিবারের ৬ সদস্য। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে বরিশালের উজিরপুর এলাকায়। নবজাতকের লাশ নিয়ে বাড়ীতে ফেরার পথে বাস-কাভার্ডভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সের ত্রিমুখী সংঘর্ষে  সকলেই  নিহত হন। দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স কেটে তাদের লাশ বের করা হয়।  এদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় মিলেছে।

নিহতরা হলেন, তিন দিন বয়সী শিশুকন্যা তামান্নার বাবা ঝালকাঠির বাসিন্দা আরিফ রাঢ়ী, মা শিউলী বেগম, দাদী নুরজাহান বেগম, চাচা কাইয়ুম রাঢ়ী, এ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আলমগীর ও অজ্ঞাত এক পুরুষ। এছাড়া আরও এক ব্যক্তি নিহত হলেও তার কোনো পরিচয় মেলেনি। পুলিশের ধারণা অজ্ঞাত ব্যক্তিটি চালকের সহকারী হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শি রা  জানান, ঢাকা থেকে শিশুর মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনা কবলিত স্থান অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি যাত্রীবাহী বাস।

ওই সময় কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতগামী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের সব যাত্রী নিহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও দমকল ইউনিট অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে আটকে পড়া মরদেহ বের করে। তবে এখনো নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ৭ যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। লাশগুলোর মধ্যে একজন নবজাতক শিশু, ২ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ। এদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তামান্না নামক শিশুটির জন্ম হয়। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এরপর মরদেহের দাফন সম্পন্নে ঝালকাঠি যাচ্ছিলো তামান্নার পিতা-মাতা ও দাদিসহ স্বজনরা।

শর্টলিংকঃ