মহররমের রোজায় মাফ হবে বিগত বছরের গোনাহ

ইসলামি আরবী হিজরী সনের প্রথম মাস হল মুহাররম। যে মাসটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ইসলামের ইতিহাসের অনেক জানা অজানা ঘটনা। বুখারী ও মুসলিম শরিফে হজরত ইবনে আব্বাস রাঃ হতে বর্ণিত, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে ইয়াহুদীগণকে ১০ই মুহাররমের একদিন রোজা রাখিতে দেখে প্রশ্ন করলেন, তোমরা এই দিনে রোজা রাখো কেন? তারা উত্তরে বললো এই দিনটি অত্যান্ত পূণ্যময় দিন।

মহান আল্লাহ এই দিনে হযরত মুসা (আঃ) এবং তাহার কওমকে নাজাত দিয়েছেন,এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবাইয়া মারিয়েছিলেন। ইহাতে হজরত মুসা (আঃ) শুকরিয়া করে রোজা রাখেন। সে কারনে আমরাও রোজা রাখি। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আমরা মুসা (আঃ) এর নিকট তোমাদের চাইতে অধিক হকদার। অতঃপর রাসূল (সাঃ) নিজেও এই দিনে রোজা রাখলেন এবং অন্যকে রোজা রাখতে আদেশ দিলেন। সেই সাথে তিনি বললেন আমি যদি বেঁচে থাকি, তাহলে আগামী বছর দুটি রোজা রাখব। এর দ্বারাই বোঝা যায় ১০ ই মহররমের গুরুত্ব অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান।

৬১ হিজরি সালের এই দিনে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা) ও তার পরিবারের সদস্যরা ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালার ময়দানে শহিদ হন। পবিত্র আশুরা তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাত্পর্যময় ও শোকাবহ দিন।

দিনটি মুসলমানদের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠারও দিন। এই দিনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে খুবই প্রিয়। তাই তিনি এ দিনে রোজা পালনের সওয়াব প্রদান করে থাকেন বহুগুণে। মুসলমানদের কাছে বিগত বছরের গোনাহর কাফফারা হিসেবে মহররমের দুটি রোজা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা) থেকে বর্ণিত: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর প্রিয় মহররম মাসের রোজা এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ (সহিহ মুসলিম)।

মহান আল্লাহ তাআলা এ দিনেই আরশ, কুরছি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং এ দিনেই আদম (আ)কে সৃষ্টি করে তাকে বেহেশতে স্থান দেন। পরবর্তীতে শয়তানের প্ররোচনায় ভুলের কারণে এ দিনেই তাকে দুনিয়াতে পাঠিয়ে আল্লাহ প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। পবিত্র আশুরার দিনে মহাপ্লাবনের সময় হজরত নূহ (আ)-এর নৌকা তার অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল। লেখক : মোঃ নাফিউল ইসলাম, মুয়াজ্জিন, উপজেলা পরিষদ মসজিদ, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা।

শর্টলিংকঃ