সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন

মমতার প্রতিনিধিদের বিমানবন্দরে আটক করল পুলিশ

নাগরিক আইনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ভারতে এ পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এই হতাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতাকর্মী৷ এদিকে আটকের  ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তৃণমূলের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি৷

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আগুন জ্বলছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় মিডিয়া কলকাতা টুয়েন্টিফোর এক্সসেভেন। রোববার হতাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে উত্তরপ্রদেশে তৃণমূলের সংসদীয় দল পাঠিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বারাকপুর লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী ও জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল সহ রাজ্যসভার সাংসদ আবীর বিশ্বাস ও নাদিমুল হক।

দীনেশ ত্রিবেদীর অভিযোগ, লখনউ-তে চৌধুরী চরণ সিং এয়ারপোর্টে পৌঁছনোর পর বিমান থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাদের আটক করেছে। বিমানবন্দরের বাইরে তাদের বেরতে দেওয়া হয়নি৷ তিনি বলেন, ‘আমরা কি জঙ্গি যে আমাদের এভাবে আটক করা হবে? আমরা তো শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতাম৷’ উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে ঢুকতে দেওয়া হবে না, একথা তৃণমূল নেতারা পৌঁছনোর আগেই জানিয়ে দেয় লখনউ পুলিশ।

ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে আমাদের অসমে ঢুকতে দেয়নি, এবার উত্তরপ্রদেশে ঢুকতে দিল না৷ আসলে ওরা সত্যটা সামনে আনতে চায় না৷ এটা একটা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক দল৷ মানুষ এর জবাব দেবে৷

তবে এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি। দিন কয়েক আগেই বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় জঙ্গিপুরে উপদ্রুত এলাকায় যেতে গিয়ে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায় তাকে ঘিরে। মালদহের উপদ্রুত এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে গ্রেফতার হন বিজেপির কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু।

এই সমস্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষের সুরে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘বিজেপি নেতারা ওখানে কেন গিয়েছিলেন? ওটা কি বেড়াতে যাওয়ার জায়গা। এখন উত্তরপ্রদেশে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল কী করতে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে গেরুয়া শিবির।’ তাদের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ঠিক কাজই করেছে৷

শর্টলিংকঃ