‘মনসা মন্দির’ ভাংচুরের রহস্য উদঘাটন

দীঘদিন পর গোবিন্দগঞ্জের মনসা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর রাতে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিরামপুরে এ মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

জানা যায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অভিযোগের তীর যায় আব্দুল হালিম (৪০) নামে এক যুবকের দিকে। সে ওই গ্রামের মৃত. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি  রাত আড়াই টার দিকে স্থানীয় একটি বিলের মধ্যে নির্মাণ করা ছনের ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই সঞ্জয় কুমার সাহা।

এসআই সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, ‘গ্রেপ্তারের পর কার্যবিধি আইনের ১৬১ ধারা মোতাবেক আব্দুল হালিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় আব্দুল হালিম মনসা মন্দিরের সবকটি প্রতিমা ভাংচুরের কথা স্বীকার করে বলেন,‘সে ২০২০ সালে ‘ফরিদপুরের আট রশি খাজা বাবা’র ভক্ত (মুরিদ) হয়। এর পর থেকে সে ঘরবাড়ী ছেড়ে ওই বিলের মধ্যে একটি খড়ের ঘর নির্মাণ করে সেখানে থাকে।’

আব্দুল হালিমের দাবি, সে এই খড়ের ঘরে থেকে আল্লাহকে দেখে এবং তার ভিতর খাজা বাবা আছে। এই মনের “খাজা বাবা”র মতে ইহুদী, খৃষ্টান ও হেন্দুরা মিথ্যা বলে, তাদের কোন প্রতিমা রাখা যাবেনা।

সে আরও জানায় এ রকম তার মনে হলে ঘটনার দিন রাত ৯ টার দিকে বাড়ী থেকে হাজির বাজারের দিকে রওনা দেয়। পধিমধ্যে মনে থাকা “খাজা বাবা”র নির্দেশে ‘মনসা মন্দির’-এ ঢুকে মনসা দেবিসহ সব প্রতিমা ভাংচুর করে বাড়ীতে ফিরে যায়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইজার উদ্দিন বলেন,ধৃত আব্দুল হালিমকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহনের আবেদনসহ আদালতে উপস্থিত করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আব্দুল হালিম দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২০ অক্টোবর রাতে  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মনসা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরের দিন ২১ অক্টোবর স্থানীয় বিষনো পদ বাদি হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে মামলা করেন। যার মামলা নং-২০, জিআর নং-৪৯০,ধারা ৪৪৮/২৯৫ দ: বি:, তাং -২১ অক্টোবর”২০২১।

শর্টলিংকঃ