ভারতে ধরা পড়েছে বাংলাদেশি নারী পাচারকারি চক্র

বাংলাদেশ থেকে শত শত নারী ভারতে পাচার করার সময় কলকাতার একটি বাড়িকে সেফ হাউস বানিয়েছিল টিকটক বাবু ও তার সহযোগিরা। রাজধানী ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে বেঙ্গালুরু দিয়ে আরব দুনিয়া পর্যন্ত তারা শক্তিশালি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক এই নারী পাচারকারী গোষ্ঠীর মুলহোতা টিকটক বাবু এখন ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশের জালে বন্দি। পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে ও তার সহযোগি সাগর নামে এক যুবক। বেঙ্গালুরুতে টিকটক বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় ধরা পড়েছে এই চক্রের আরও কয়েকজন। এমনই জানাচ্ছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, টিকটক বাবুর পাচার চক্রের অন্যতম আশরাফুল ওরফে বস রাফি ঢাকায় ধরা পড়েছে। তার বাড়ি ঝিনাইদহে।

টিকটক বাবু এক বাংলাদেশি কিশোরীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে পতিতা পল্লীতে বিক্রি ও যৌন নির্যাতনের ভিডিও সূত্র ধরে ধরে পড়ে। বেঙ্গালুরু ও ঢাকা মহানগর পুলিশের মধ্যে এই মামলায় তথ্য বিনিময় হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে জানা প্রকাশ হয়, গত ৮ বছরে ৫০০ জনের বেশি বাংলাদেশি নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, এই নারী পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা আশরাফুল মন্ডল ওরফে ‘বস রাফি’ সহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বছর তিরিশের ‘বস রাফি’র সঙ্গে এই নারী ও মানব পাচারকারী চক্রের সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত।

ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক বাবু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের পান্ডা। বাংলাদেশ থেকে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান সহ বিভিন্ন দেশে কিশোরী, তরুনী পাচার করত।

সম্প্রতি টিকটক বাবুর কয়েকজন সহযোগি ও দুই মহিলা কে গ্রেফতার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাদের নিয়ে তদন্ত অভিযান চলার ফাঁকে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় টিকটক বাবু ও সাগর নামে তার আরেক সহযোগি। যে ভিডিওতে টিকটক বাবুকে নারী নির্যাতন করতে দেখা গিয়েছে সেটি দেখে তদন্ত শুরু হয়।

জানা যায় নির্যাতিতা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তাকে ফুঁসলিয়ে ভারতে নিয়ে যায় টিকটক বাবু। এই পাচারকারীরা ভারতের কেরল ও কর্নাটকের মধ্যে বিভিন্ন হোটেলে নারী পাচার করে। তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন তথ্য দেয় বেঙ্গালুরু পুলিশকে।

ঢাকায় , টিকটক বাবুর সহযোগি আশরাফুল মন্ডল ওরফে বস রাফি। বছর আটেক আগে থেকে ভারতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। প্রথমে বেঙ্গালুরুতে ট্যাক্সি চালাত। পরে হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী এবং কাপড়ের ব্যবসা করত। বছর দুয়েক আগে টিকটক বাবুর সঙ্গে রাফির পরিচয় হয়। এরপর প্রায় ৫০০ তরুণীকে ভারতে পাচার করে তারা।

তদন্তে উঠে এসেছে, উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতে নারী পাচার করত টিকটক বাবু ও বস রাফি। সোশ্যাল সাইটে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন বয়সের তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত তারা।

তদন্তে আরও জানা যায়, বাংলাদেশি তরুণীদের ভারতে পাচারের পর প্রথমে সীমান্তের যশোরে একটি গোপন ডেরায় তোলা হতো। সেখান থেকে কলকাতায় পাঠিয়ে একটি সেফ হাউসে রাখা হতো।

র‌্যাব কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ সব তথ্য নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, সুযোগ বুঝে কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু পাঠানো হতো। বেঙ্গালুরু পৌঁছানোর পর রাফি তাদের গ্রহণ করে বিভিন্ন সেফ হাউজে নিয়ে রাখত। সেখানেই মাদকাসক্তে অভ্যস্তকরণ এবং নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন পেশায় বাধ্য করানো হতো তাদের।

শর্টলিংকঃ