ভারতে তরুণীকে যৌন নিপীড়নে ৪ বাংলাদেশী আটক

ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাচারকারী চক্রের হাতে বাংলাদেশি এক তরুণীর যৌন নিপীড়নের ভিডিও ফাঁসের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অন্তত ৪ যুবককে আটক করেছে।

তারা হলো- ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইন উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ওরফে রাফি মন্ডল (২৯) ও যশোরের বেনাপোল উপজেলার পোড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জামাল শেখের ছেলে আব্দুর রহমান ওরফে আরমান শেখ (২৫)।

অপর দু’জনের পরিচয় জানা যায়নি।তবে আইন শৃংখলা বাহিনীর তরফ থেকে সংবাদ সন্মেলনে আটককৃতদের বিস্তারিত প্রকাশ করা হতে পারে।এই মুহুর্তে রাজধানীর বাইরে থেকে গ্রেফতারের পর তাদের আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাচারকারী চক্রের হাতে বাংলাদেশি এক তরুণীর যৌন নিপীড়নের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। একপর্যায়ে ভারতীয় পুলিশ ৩ নিপীড়ক ও ১ কিশোরীকে আটক করে। আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশি।

ঘটনার পর রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় নামের এক যুবকের নাম বেরিয়ে আসে। যিনি টিকটক অ্যাপসে ভিডিও বানানোর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী পাচার করে আসছিলেন।টিকটক হৃদয় ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর ঢাকা হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা।

নির্ভরশীল সূত্র জানায়, টিকটক হৃদয়ের নারী পাচার চক্রের মূল হোতা আশরাফুল ইসলাম ওরফে রাফি মন্ডল।তিনি একাই এখন পর্যন্ত কয়েকশ’ তরুণীকে ভারতের পতিতালয়ে পাচার করে থাকেন। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি ভারতেই অবস্থান করেন। রাফির হাতে ভারতের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জাল কাগজপত্র রয়েছে।

সূত্রমতে, ভারতীয় পুলিশের হাতে আসা ভিডিওতে রাফিকে কোকেন সেবন করতে দেখা যায়। এর সূত্র ধরে তাকে চিহ্নিত করে ভারতীয় পুলিশ। তিনি ভারতে পাচারের শিকার তরুণীদের কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে বাধ্য করেন। কারণ উচ্চমাত্রায় মাদক সেবনের পর পাচারের শিকার নারীদের অনেকেই বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থায় দিনের পর দিন তারা মুখ বুজে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করে যান। একপর্যায়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

পুলিশ জানায়, টিকটক হৃদয়ের হাতে ভারতীয়দের ব্যবহৃত জাল আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড পাওয়া গেছে। এছাড়া ভুক্তভোগী তরুণীকেও একটি আধার কার্ড করে দেয় ভারতীয় অংশের দালালরা।

শর্টলিংকঃ