বড়দহ সেতুর টোল আদায় বাতিলের দাবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড়দহ সেতুর টোল আদায় সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আবারও উত্তপ্ত  হয়ে উঠছে এলাকাবাসি। তারা টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। গতকাল উপজেলার কাটাখালী নদীর বড়দহ সেতুর ওপর এলাবাসী এই মানব বন্ধনে অংশ নেয়।

এসময় স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাহাদত হোসেন বিল্পব, শাহজাহান আলী সহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা সদরে যাতায়াত সহ আশপাশের বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়ার সহজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড়দহ সেতু ব্যবহার করা হয়। যে কারণে সরকারের টোল আদায়ের সিদ্ধান্তে বেশ বিপাকে চলাচলকারীরা। তাই অবিলম্বে সরকার এই সেতুর ওপর যে টোল আরোপ করেছেন তা বাতিল করার দাবী জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গাইবান্ধা-নাকাইহাট-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে করতোয়া নদীর উপর বড়দহ সেতু নির্মিত হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য ২৫৩ দশমিক ৫৬ মিটার এবং প্রস্থ ছয় দশমিক ১০ মিটার। সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ১৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ওই বছরের ২০ আগষ্ট ভিডিও কনফ্রান্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করেন। ওইদিন থেকে সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

সূত্রমতে- ২০১৪ সালের টোল আদায়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যে সেতুর দৈর্ঘ্য ২০০ মিটারের উপরে, সেগুলো থেকে টোল আদায় করতে হবে। সেই হিসেবে বড়দড় সেতুর টোল আদায়ের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু দরপত্রে কেউ অংশ নেননি। তাই পুনরায় দরপত্র আহবান করা হয়। এভাবে আট দফায় দরপত্র আহবান করেও কোনো ঠিকাদার পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১৭ সালের ৭ আগষ্ট নবম বার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে এ কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম। ওই বছরের (২০১৭ সাল) অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঠিকাদারের সঙ্গে এক বছরের জন্য ঢোল আদায়ের চুক্তি হয়। এক বছরে ইজারা মুল্য নির্ধারন করা হয় ১২ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা।

এদিকে দায়িত্ব পেয়ে ঠিকাদার টোল আদায়ের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এলাকাবাসী সেতুর উপর মিছিল সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। পরে  এলাকাবাসীর আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে বেশ কয়েক বছর সেতুর ওপর টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বন্ধ হয়। পুনরায় টোল আদায় শুরু হলে আবারও  এলাকাবাসী তা বন্ধের দাবি করে।। এসব পরিস্থিতিতে বন্ধ টোল আদায় সিদ্ধান্তের ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে।

শর্টলিংকঃ