ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৌর গ্রাম চালু করলো ফ্রেন্ডশিপ

প্রত্যন্ত চরে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করলো উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ। কুড়িগ্রাম চিলমারী উপজেলার নায়েরহাট ইউনিয়নের অধীন গয়নার পটল চরে চালু হলো এই সৌর বিদ্যুৎ সেবা।ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝে প্রত্যন্ত চরে ৫৪ কিলোওয়াট মাইক্রোগ্রীড বিদ্যুৎ সেবা’র উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চর গয়নার পটলে সৌর প্যানেল চালুর ফলে বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

অনলাইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বেশিরভাগ এলাকায় নিশ্চিতের পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ’শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’- এই শ্লোগান বাস্তবায়নে এগিয়ে আসায় ফ্রেন্ডশিপ’কে ধন্যবাদও দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক এলাকা আলোকিত করার কাজে ফ্রেন্ডশিপকে সহযোগিতার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, নবায়নযোগ্য জ্বালানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ -স্রেডা, ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড- ইডকল এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানান সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।

অনুষ্ঠানে যোগ দেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইডকলের উপ-নির্বাহী পরিচালক এসএম মনিরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ রেজাউল করিম, ফ্রেন্ডশিপের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিভাগ পরিচালক মোঃ কামাল উদ্দিন, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান-সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বক্তরা জানান, প্রত্যন্ত চর গয়নার পটলে সোলার মাইক্রোগ্রীড বা সৌর বিদ্যুৎ চালুর ফলে নতুন করে গতি আসবে স্থানীয় জীবনযাত্রায়। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে স্থানীয় বাজারের ২৪টি দোকান, একটি মসজিদ, ফ্রেন্ডশিপ লিগ্যাল বুথ (যেখানে স্থানীয়দের জন্য আইনি সহায়তা দেয়া হয়), ফ্রেন্ডশিপ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফ্রেন্ডশিপ তাঁত বুনন ও সেল্ইা কেন্দ্র এবং ১১৪টির বেশি বাড়ী। সুবিধাভোগিদের মাঝে প্রি-পেইড এনার্জি মিটারের মাধ্যমে ২২০ ভোল্ট (এসি) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ বিদ্যুত দিয়ে প্রতিটি গ্রাহক ৬টি লাইট, ২টি পেডেস্টাল ফ্যান (স্ট্যান্ড ফ্যান), ১টি এলইডি টিভি এবং মোবাইল ফোন চার্জার ব্যবহার করতে পারবেন।অচীরেই গয়নার পটল চরে বিদ্যুৎ চালিত দু’টি সেচ পাম্প বসানোর পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র-যমুনার প্রত্যন্ত চরে ধাপে ধাপে এ ধরণের বিদ্যুৎ সেবা বাড়ানোর কথাও জানান উদ্যোক্তারা।

বাংলাদেশের যেখানে জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে, সে সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বালম্বীকারণ এবং স্থানীয় জনগনের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’। ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিবছর ৬০লাখ মানুষকে সহযোগিতা করে আসছে সংস্থাটি। দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকার পাশাপাশি যেখানকার বাসিন্দারা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার, এমন জনগোষ্ঠিকে স্বাবলম্বী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ। এক্ষেত্রে দেশে এবং দেশের বাইরে সফলতার মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্রেন্ডশিপ। বাংলাদেশে এই সংস্থার রয়েছে ৩হাজারের বেশি কর্মী, কর্মচারী ও কর্মকর্তা। ফ্রেন্ডশিপে কর্মরত শতকরা ৫০ভাগ জনশক্তিই এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে।

শর্টলিংকঃ