বেকারি মালিক সমিতির ব্যবসা বন্ধের আল্টিমেটাম

সরকারি গেজেটকে উপেক্ষা করে ভ্যাট আদায়ের নামে বেকারি মালিকদের হয়রানি করলে বেকারি মালিক সমিতি ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে। শনিবার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ।

তিনি এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, করোনার ভয়াবহ আক্রমনে বেকারি মালিক সমিতির মালিকরা অর্থনৈতিক ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই শিল্পকে রক্ষা করতে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। ঠিক এই মুহুর্তে বেকারি মালিকদের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুর।

তিনি বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সরকারি গেজেট অনুযায়ী (উৎপাদন পর্যায়ে) দেশীয় বেকারি শিল্প রক্ষার্থে ব্রেড, বিস্কুট, কেক ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট মুক্ত রাখা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা মালিক সমিতির সকল বেকারির ভ্যাটের নিবন্ধন রয়েছে। তা সত্তেও বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুর কর্তৃক নতুন নিবন্ধন এর নামে প্রতিনিয়ত হয়রানি, জুলুম এর কারনে আমাদেরকে বেকারি ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি বেকারির গাড়ি আটক করে খাদ্য দ্রব্য নষ্ট করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, কিন্তু অত্যান্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুর নতুন নিবন্ধন করার জন্য কোন প্রকার নোটিশ প্রদান না করেই বিভিন্ন রাস্তায় বেকারির গাড়ীতে পাউরুটি সহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আটক করে হয়রানি করছে। পাউরুটি সহ কিছু খাদ্য দব্য আসে যা ৭২ ঘন্টার পর ব্যবহার করা যায় না। এসব পচনশীল খাদ্যদ্রব্য আটক করা হচ্ছে। যা ৭২ ঘন্টার পর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর ইউসুফ বেকারির একটি পাউরুটির গাড়ী আটক করে রাখা হয়েছে। ফলে ওই গাড়ীর সকল পাউরুটি ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। এ ভাবে বেকারি মালিকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নতুন নিবন্ধন অনলাইন সিস্টেমের হওয়ার পরও বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুর এক থেকে দেড়মাস সময় নিচ্ছে। করোনার ভয়াবহ থাবায় বেকারি মালিকরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

অপরদিকে, উৎপাদিত কাচামাল, ময়দা, চিনি, তেল, ডালডা সহ বিভিন্ন পন্যের উর্দ্ধমুখী বেকারি ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর পর মরার উপরে খারার ঘায়ের মত বর্তমান বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুরের অবৈধ হস্তক্ষেপ ও হয়রানিতে আমাদেরকে এ ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কিন্তু জনগনের দুর্ভোগ চিন্তা করে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নিয়েও বেকারি পরিচালনা করে আসছি।

একদিকে, করোনার থাবা আর অপরদিকে বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুরের হয়রানি আমাদেরকে চরম বিপদগ্রস্থ করে ফেলেছে। এ অবস্থায় বিভাগীয় কর্মকর্তা কাস্টমস ভ্যাট বিভাগ দিনাজপুর এ অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করা না হলে দিনাজপুর বেকারি মালিক সমিতি আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার মানববন্ধন করে কঠোর কর্মসুচী ঘোষনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মাকসুদুল আলম পাটোয়ারী, জেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি জহির শাহ, জেলা বেকারি মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর জামান রবি, সাধারন সম্পাদক শামিম শেখ, সহ-সাধারন সম্পাদক জাহিদ, সদস্য শাহিদ আলী প্রমুখ।

শর্টলিংকঃ