বিবস্ত্র করা সেই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে দেলোয়ার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের আগে সেই নারীকে (৩৬)অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে দেলোয়ার । জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ-তদন্ত) আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর আজ বেলা ২টার দিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অডিটরিয়ামে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন। তিনি এর আগে সকালের দিকে বেগমগঞ্জ থানায় ওই নির্যাতিত নারীর সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় ওই গৃহবধূ তাদের নিকট অভিযোগ করেন, দেড় বছর আগে দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করে। তিনি চিৎকার করার চেষ্টা করলে দেলোয়ার তার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তাকে গণধর্ষণসহ হত্যা ভয় দেখাতো।

এর কিছুদিন পর দেলোয়ার ও তার সহযোগী কালাম ওই নারীকে তার বাড়ি থেকে নৌকা যোগে স্থানীয় একটি বিলে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মেয়েটিকে গণধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটি হাতে পায়ে ধরে কালামের হাত থেকে রক্ষা পেলেও দেলোয়ার তাকে নৌকার মধ্যে পুনরায় ধর্ষণ করে। এরপর থেকে দেলোয়ার তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক, এ ঘটনায় নির্যাতিতা বাদী হয়ে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা করবেন। মামলাটি পরিচালনা করবেন অ্যাডভোকেট জাফর উদ্দিন বাবুল। আদালতে ২২ ধারায় পুনরায় ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। আমাদের তদন্ত শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট চেয়ারম্যান মানবাধিকারের কাছে জমা দেয়া হবে। তদন্তকালে জাতীয় মানবাধিকারের উপ-পরিচালক গাজী সালা উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামীর সাথে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এসে তাদের ঘরে ঢোকেন। বিষয়টি জানতে পান স্থানীয় মাদকব্যবসায়ী দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে ঢুকে অন্য পুরুষের সাথে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মারধর করেন। এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

শর্টলিংকঃ