প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাচ্ছে কালীগঞ্জের ১৫০ পরিবার

মুজিববর্ষ উপলক্ষে শনিবার ২৩ জানুয়ারী গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গৃহহীনদের ঘর দেয়া বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা পূরণ করতে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে সরকারের একটি বড় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পেতে যাচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৫০ পরিবার। এতদিন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আশ্রয় ছিলো অন্যের বাড়ির আঙ্গিনা অথবা কারো ভাড়া বাসায় কিংবা রাস্তার পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে।

স্বপ্ন ছিলো নিজের একখন্ড জমি ও একটি ঘর। তবে তাদের স্বপ্ন এবার বাস্তব হবার পালা। ঠিকানাহীন থাকা এসব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই উচ্ছ্বাস। খুঁজে পাবে ঠিকানা দু’দিন পরই এসব ঘরে উঠতে পারবেন জেনে প্রধানমন্ত্রীকে আগাম ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি তারা।

বিভিন্ন জনের দখলে থাকা সরকারি খাস জমি উদ্ধার করে সেখানে ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্যে তৈরি করা হয় পাকা ঘর। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাদের কাছে তুলে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উপহার। সম্প্রতি ভূমিহীনদের জন্য নবনির্মিত এসব পাকা ঘর পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

জানা গেছে, যদের জমি ও বাড়ি কোনো কিছুই নেই তাদেরকে সরকারিভাবে ২ শতাংশ খাস জমির বন্দোবস্তসহ কালীগঞ্জ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে খাস জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ১৫০টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে দুলালী মুজিব নিবাস ২০টি, সুকানদিঘী মুজিব নিবাস ২২ টি, চলবলা মুজিব নিবাস ২৫ টি,মদাতী মুজিব নিবাস ৫১ টি, তুষভান্ডার ইউনিয়নে ১৩ টি, ভোটমারী ইউনিয়নে ১ টি, দলগ্রাম ইউনিয়নে ১৮টি এবং কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ১ টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রত্যেক পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত করে ওই জমির ওপর ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। দুই কক্ষবিশিষ্ট এসব সেমি পাকা ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর ও বাথরুমের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। উপজেলার কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, শেখ হাসিনা সরকার আমাদের জন্য থাকার ঘর করে দিয়েছেন, আমরা আর গৃহহীন থাকব না। সকলেই খুশি।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান জানান, এসব ঘর নির্মাণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও টেকসই নিশ্চিত করা হয়েছে । গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য ঘরগুলো নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে এবং আমি নিজেই নিয়মিত তদারকি করছি যেন সুষ্ঠভাবে কোন রকম অনিয়ম ছাড়া এই কাজ গুলো শেষ করে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। নকশা অনুযায়ী কাজের মান ঠিক রেখেই এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় প্রত্যেক সুবিধাভোগীর নামে ২ শতাংশ সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদানপূর্বক কবুলিয়ত দলিল রেজিস্ট্রেশন, নামজারি সম্পন্নকরণ ও গৃহ প্রদানের সনদ প্রদানসহ সকল কাজ সম্পন্ন। উদ্বোধণ শেষে তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে জমিসহ নির্মানকৃত ঘর গুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসক আবু জাফর মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান মহোদয় -এর তত্ত্বাবধায়নে নকশা অনুযায়ী কাজের মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারী এসব ঘর তৈরি করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ