পাটগ্রামে কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা

রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাটগ্রামে কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনার দৃশ্য। ছবি : দশের খবর

রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে কৃষি সেক্টরের উন্নয়নে কৃষকদের মাঝে ৫৩টি পাওয়ার থ্রেসার, ২টি ইউনোয়ার, ১২টি পাওয়ার স্প্রেয়ার, ১২টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ১২টি ফুট পাম্প, ১২টি উইডার, ১২টি রিপার, ১০টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, ৩টি গ্রেইন ময়েশ্চার মিটার বিতরণ করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় দানা ফসল কৃষক দলের সংখ্যা ৫০টি, সবজি ফসল কৃষক দলের সংখ্যা ১২টি এবং ফল ফসল কৃষক দলের সংখ্যা ১৩টি রয়েছে। কৃষক দলের মাঝে ১০টি ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র বিনাম‚ল্যে বিতরণ করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান এসিআই মটরস থেকে কৃষকদের এই যন্ত্র পরিচিতি ও পরিচালনার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ আধুনিক কৃষিযন্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহার করে প্রদর্শনী ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করে কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছেন। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা ধরে রাখার লক্ষ্যে চলতি রোপা আমন মৌসুমে রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রাংশ বিতরণ করায় কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুচনা হয়েছে।

সাধারণ কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চাষাবাদ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে জমিতে ধানের চারা ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে কম খরচে লাগানো হয়েছে। এতে করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে।

সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান এসিআই মটরস এর রংপুর রিজনের রিজওনাল ম্যানেজার সেলস্ মাহমুদ রশিদ জানায়, এসিআই মটরস্ সারাদেশের ন্যায় পাটগ্রামে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে। যেখানে ১ একর জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন করতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হতো আর সময় লাগতো সারা দিন। কিন্তু আধুনিক ইয়ানমার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারে ২ ঘন্টায় ১ একর জমিতে ধানের চারা রোপন করা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দা সিফাত জাহান জানায়, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ প্রকল্পের আওতায় পাটগ্রাম উপজেলায় বিভিন্ন কৃষক দলের মাঝে ১’শ ২৮টি কৃষি যন্ত্রাংশ বিতরণ করা হয়েছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সাধারণ কৃষকরা চাষাবাদে পরিবর্তন এনেছে। এ কারণে কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মানধাত্বা আমলের কৃষি চাষাবাদে প্রযুক্তির ব্যবহার করে চলতি রোপা আমন মৌসুমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে জমিতে স্বল্প সময়ে কম খরচে শ্রমিক শ্রম ঘন্টা কমিয়ে ধানের চারা রোপন করেছে। আগামীতে পুরো কৃষিতে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ীর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শামীম আশরাফ জানায়, বর্তমান সরকার কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষি সেক্টরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তর সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার কারণে দেশে কৃষিতে সাফল্য এসেছে। দেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি যান্ত্রিকিকরণের মাধ্যমে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করতে কৃষি সেক্টরে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শর্টলিংকঃ