নিরুত্তাপ ভোটে আওয়ামীলীগ নেতার জরিমানা

রতন রায় সুন্দরগঞ্জ থেকে ফিরে : গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন মঙ্গলবার তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ৮ ঘণ্টা ভোট গ্রহণে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তেমন দেখা যায়নি।

উপজেলার আবদুল মজিদ মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আটটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম। বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আলেয়া বেগম জানান, স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার পরও উপজেলা ও পৌরসভায় ভোট হয়েছে। সেখানে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তেমন দেখা যায়নি। নিরুত্তাপ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন না হওয়ায় ভোটাররা ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। সচেতন মহল মনে করেন, দীর্ঘদিন থেকে জনগণ ভোট দিতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরত পোলিং-প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা অলস সময় পার করছেন। কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলেও উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপাল চরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে ভোট নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের প্রেক্ষীতে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের চারজন নেতাকে আটক করে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের প্রত্যেকের পাঁচ হাজার করে চারজনের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। থানার ওসি আতিয়ার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দন্ডপ্রাপ্ত নেতারা হলেন-উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল আলম রেজা, দহবন্ধ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আশেক আলী জিকু, ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের নেতা দুদুমিয়া ও জুয়েল।

উলে¬¬¬¬খ্য, ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে এ আসনটি শূন্য হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করেন।

শর্টলিংকঃ