নওগাঁয় লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে ৪৫ চেকপোষ্ট

করোনা সংক্রমন হার বৃদ্ধি পাওযায় নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় চলছে দ্বিতীয় দিনের মত বিশেষ সর্বাত্মক লকডাউন। আর এইলকডাউন বাস্তবায়নে নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মোড়ে ৪৫টি পুলিশি চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে।

তবে শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের মধ্যে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি ও মোটর সাইকেলসহ ছোট যান বাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন দোকান, বিপনী বিতানের সামনে কর্মজীবি-শ্রমজীবি মানুষের জটলা, রাস্তায় পায়ে হেঁটে পথচারীদেরকে চলাচল করতে দেখা গেছে ও বিভিন্ন অযুহাতে বাড়ির বাইরে বের হতে দেখা গেছে। পথচারীদের অনেককেই মাস্ক ছাড়াই চলাচল করেছন। তবে বন্ধ রযেছে সকল প্রকার দোকানপাট ও আন্তজাতিক দুরপাল্লার বাস।। এছাড়াও কাঁচাবাজার গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

শুক্রবার সকালে নওগাঁ পৌরসভায় বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে-এসব পুলিশি চেকপোষ্টে সকাল থেকে জনসাধারণ ও যানবাহন প্রবেশ বা চলাচল রোধ করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। জরুরী সেবা ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলতে দেয়া হচ্ছে না এবং যারা অকারনে রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা নিয়ে বের হচ্ছে পড়তে হচ্ছে পুলিশের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মিখুনে। নিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাড়ি সিট, চাবি এবং টায়ারের হাওয়া ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের ৮টি ভ্রা¤্রমান টিম।

উল্লেখ্য করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাওযায় বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ নওগাঁ পৌরসভা এলাকা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় জরুরি পন্যবাহি যানবাহন ছাড়া সকল প্রকার যাহবাহন চলাচলে নিষিদ্ধ আরোপসহ ১৫টি নির্দেশনা জারি সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেন। এছাড়া সাপাহার, পোরশা ও মান্দা উপজেলায় বাজারঘাট ও জনসমাগম ঘটে এমন এলাকা লকডাউন কার্যকর করার ঘোষণা দেয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ হারুন অর রশীদ জানান, এই কঠোর লকডাউনে নওগাঁ পৌরসভায় ৬টি ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ২টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে। আবার যারা জরুরী কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন তাদেরকে বুঝিয়ে ঘরে ফেরত পাঠাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরার উপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নওগাঁ জেলায় ১২৭ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলার ধামইরহাট উপজেলায় করোনা ভাইরাসে সনাতন ঘোষ নামের একজন মারা গেছে। মোট মৃত্যু বরন করেছেন ৪৪ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ৩৬২ জনে দাঁড়ালো। সর্বমোট সুস্থ্য হয়েছেন ২ হাজার ৩৫ জন।

শর্টলিংকঃ