নওগাঁয় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকায় আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে পুলিশসহ বিএনপির প্রায় অর্ধমত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হেফাজত কর্মী হতাহতের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে দু’পেক্ষর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ের পূর্ব দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এসময় ওই এলাকা ও আশাপাশের সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে নওগাঁ সদর থানা ও পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তা ছেড়ে দেয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। বিএনপির নেতাকর্মীরা কেডির মোড় এলাকা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছুড়ে। এতে আমিসহ দলের অন্তত ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছি। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক কোহিনুর ইসলাম মিলি ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদের নওগাঁ সদর হাসপাতলসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, অনুমতি ছাড়াই বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে মিছিলের চেষ্টা করলে উপস্থিত পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএনপি কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। বিএনপির কর্মীদের হামলায় ছয়-সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শর্টলিংকঃ