দুই হাত নেই, পা দিয়ে লেখেই পেল জেএসসিতে জিপিএ-৫

প্রতিবন্ধিকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি মানিককে। তার দুই হাত না থাকলেও এবারের জেএসসি পরীক্ষায় পা দিয়ে লেখেই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মানিক। তার এই অদম্যর কথা নিশ্চিত করেছেন  ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার।

ওই শিক্ষক আরো বলেন, ‘মানিক ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার রোল নম্বর ৬১৮০১৩। এর আগে ২০১৬ সালে পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) অর্জন করে।’

মানিক রহমান বলেন, ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে পা দিয়ে লিখে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন সামনে আরও ভালো করতে পারি।’ মানিক রহমান আরো বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে যেন তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি সেই কামনা করি।’

ছেলের এমন ফলাফলে খুশিতে প্রায় কেঁদেই ফেলেন মানিকের বাবা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম ২য় শ্রেণীতে পড়ে। মানিক শারীরিক প্রতিবন্ধী এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে মানিকের মা ও আমি তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। এ জন্য আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অবদানটাই অনেক বেশি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানিক অসাধারণ শিক্ষার্থী। সে আমাদের বিদ্যালয়ের সম্পদ। সে ডান পায়ে বুড়ো আঙ্গুলের ফাঁকে কলম ধরে লিখে আর বাম পা দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টাতে পারে। এভাবে পরীক্ষা দিয়ে সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।’

মানিকের প্রতিভার প্রশংসা করে এই শিক্ষক আরো বলেন, ‘আসলে ওর প্রতিভা আল্লাহ প্রদত্ত। সে পড়ালেখার পাশাপাশি আবৃত্তি ও গানেও সম পারদর্শী। আমি দেয়া করি আল্লাহ যেন ওর সকল বাসা পূর্ণ করেন।’ ফুলবাড়ী জছি মিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী এবারের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ উত্তীর্ণ এ এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানিক রহমানসহ ৩২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে বলে জানান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক।

শর্টলিংকঃ