জামায়াত আমীর দম্পত্তির দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে আ.লীগ নেতার তদবির

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেড়ামালঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাকছুদা বেগমের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তদবির করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা। ওই শিক্ষিকার নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তকারি কর্মকর্তা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিকট এ তদবির করেন ওই নেতা। মাকছুদা বেগম তালুককানুপুর ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের আমীর লেচু মিয়ার স্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাকছুদা বেগমের বিরুদ্ধে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের দায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগ হয়। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাজির হোসেন। এরপর থেকেই তাঁর নিকট শুরু হয় জামায়াত পন্থী সাংবাদিদের তদবির।অভিযোগকারি শহিদুল ইসলাম জানান, শুধু তাই নয় মাকছুদা বেগমের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সারির এক নেতার নিকট ধর্ণা দেন।তিনি শুধু আওয়ামীলীগ নেতাই নন উপজেলা প্রশাসনেরও অন্যতম একজন।দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে তদন্তকারি কর্মকর্তার নিকট মোবাইল ফোন করেন তিনি। এতে স্বাভাবিক তদন্তের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ না হওয়ার আশঙ্কা করেছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের ওই নেতা বলেন, তাঁকে ভূল বোঝানো হয়েছিল।

এদিকে, অভিযোগটি তদন্তের শেষ দিন আজ সোমবার দুপুরে উভয়পক্ষ উপস্থিত হয়েছিলেন সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন নয়াদিগন্ত ও সাতমাথা পত্রিকার সাংবাদিক মির্জা শওকত জামান ওরফে পিএস জামান, দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল হান্নান আকন্দ প্রমুখ। তদন্তকালে প্রধান শিক্ষিকা মাকছুদা বেগম তাঁর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে ৫জন শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ স্বীকার করে এ প্রতিবেদকের নিকট দেয়া অডিও স্বীকারোক্তি বাজিয়ে শুনানোর পর তিনি তা স্বীকার করেন। তবে ওই মুহুর্তে উক্ত ৫ শিক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

শর্টলিংকঃ