জানুয়ারিতেই অক্সফোর্ডের টিকা পাবে বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের টিকা আনতে গত ৫ নভেম্বর সরকার চুক্তি করছিল। আজ যুক্তরাজ্য সরকার সেই অক্সফোর্ডের টিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য সুখবর। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন হওয়ামাত্রই সেটি ভারতের পাশাপাশি আমরাও পেয়ে যাব। আমরা আশা করছি, জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বা তার আগেও আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যেতে পারি। যেহেতু এর অনুমোদন প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি হচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এরপর আগামী জুন মাসের মধ্যেই গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো পাঁচ-ছয় কোটি ডোজ টিকা দেশে চলে আসবে। ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ না নেওয়ায় ১৮ বছরের নিচে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষকে ও গর্ভবতী প্রায় ৩৫ লাখ মায়েদেরকে টিকা দেওয়া না লাগলে পাঁচ-ছয় কোটি টিকা প্রয়োগেই দেশ অনেকটা নিরাপদ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে মহাখালীর বিসিপিএস অডিটরিয়াম হলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ডাটা মিডিয়া ব্লুমবার্গ কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী ২০-তম ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম স্থানের স্বীকৃতি’ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলি বলেন জাহিদ মালেক।

ব্লুমবার্গের স্বীকৃতিকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ব্লুমবার্গ কেবল দেশের অর্থনৈতিক সফলতা দেখেই রিপোর্টটি করেনি। প্রতিষ্ঠানটি করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, টিকাদান সক্ষমতা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি মেট্রিক্স বিবেচনা করে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে। কাজেই এই ফলাফল আমাদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ফলাফলে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আরো গতিশীলভাবে কাজে নেমে পড়তে হবে বলে উপস্থিত চিকিৎসকদের জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান প্রমুখ।

শর্টলিংকঃ