চিলমারীতে তেলশূন্য যমুনা ও মেঘনা ডিপো

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভাসমান তেল ডিপো যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বার্জ দুটি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থায় থাকায় এ নিয়ে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ডিলার ও খুচরা তেল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকার জ্বালানি তেলের অধিকাংশ চাহিদা পূরণকারী যমুনা ডিপোটিতে দীর্ঘদিন ধরে তেলশূন্য থাকায় আসন্ন সেচ মৌসুমে সঙ্কটে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক।

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে আসছে ওই ভাসমান তেল ডিপো দুটি। জেলাগুলোর চরাঞ্চলের কৃষকদের বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় তারা শুধু জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই ডিপো দুটি তেলশূন্য থাকায় সুবিধাভোগীরা তেল সঙ্কটে রয়েছেন এবং আসন্ন সেচ মৌসুমে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট নেই। চাহিদার অতিরিক্ত তেল মজুদ রয়েছে। চিলমারীতে তেল সংকটের বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান বিপিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। বর্তমানে দেশে ৫ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ আছে। দেশে প্রতিদিন তেলের চাহিদা রয়েছে ১৩ হাজার টন। কাজেই এ মুহূর্তে তেলের কোনো সঙ্কট নেই।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে গত বছর জানুয়ারিতে যমুনা ডিপোটি তেলশূন্য হয়ে পড়ে। গত এপ্রিল থেকে ডিপোটিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় এটি তেলশূন্য থাকার অন্যতম কারণ।

অপর দিকে, মেঘনা ডিপোটি গত ১৩ ডিসেম্বর তেলশূন্য হয়ে থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে সেটিতেও সরবরাহ আসছে না। গত সপ্তাহে মেঘনা ডিপোর একটি জাহাজ ২ লাখ ২৭ হাজার লিটার তেল নিয়ে নাব্যতা সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সিরাজগঞ্জ এলাকা থেকে ফেরত চলে যায়।

ভাসমান তেল ডিপো দুটির অনুমোদিত ২২ জন ডিলার প্রতি লিটার তেল ৬২ টাকা ৫১ পয়সায় ক্রয় করে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট সরবরাহ করেন। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি লিটার বিক্রি করেন ৬৫ টাকায়।

যমুনা ও মেঘনা তেল ডিপো দুটি তেলশূন্য হওয়ায় পার্বতীপুর থেকে সড়কপথে তেল পরিবহন করলে এক লরি অর্থাৎ ৯ হাজার লিটার তেল আনতে অতিরিক্ত পরিবহন ও শ্রমিক খরচ হয় প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টাকা। যা প্রতি লিটারে পৌনে দুই টাকা বেশি।

সব মিলে ডিলারদের তেল কিনতে হয় প্রায় ৬৫ টাকায়। এরপর খুচরা বিক্রেতা থেকে খুচরা ক্রেতা। ফলে ক্রেতাদের তেল কিনতে হচ্ছে ৬৭-৭০ টাকায় । তেল ব্যবসায়ীরা জানান এখন দূর থেকে তেল আনতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করছি। অজানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ডিপো দুটি তেলশূন্য থাকায় জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তেল ব্যবসায়ী নজির অ্যান্ড সন্স-এর স্বত্বাধিকারী মাইদুল ইসলাম জানান, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি থেকে সড়কপথে তেল পরিবহন করলে লিটার প্রতি প্রায় দুই টাকা বেশি খরচ হয় ফলে ক্রেতাদের অধিক মূলে তেল কিনতে হয়। তাই জনগণের সুবিধার্থে ডিপো দুটিতে তেলের মজুদ বাড়িয়ে এ অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন করা দরকার। চিলমারী জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফুলবাবু বলেন, এলাকার জ্বালানি তেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ডিপো দুটি কোম্পানির কাছে অবহেলিত হওয়ায় এখানকার কৃষকরা চরম সংকটে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মেঘনা অয়েল কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলীর বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। নদীর নাব্যের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ছাড়পত্র সাপেক্ষে তেল প্রেরণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ