চিনে দম্পতিদের তিন সন্তান নীতি অনুমোদন ঘোষণা

চিনে ক্রমেই বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দ্রুত কমছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবার পরিকল্পনার নিয়মে ((Family Planning Rules) শিথিলতা আনল চিনের কমিউনিস্ট সরকার। প্রত্যেক দম্পতিকে তিন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল চিন। নতুন এই নীতিটি ইতিমধ্যে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের (President Xi Jinping) অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, চিনের (China) দুটি শিশুর নীতি চিনে বাতিল হতে চলেছে।

তবে কবে থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, সোমবারের বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সেদেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে জানা গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (President Xi Jinping) নেতৃত্বে হওয়া ওই বৈঠকে অবসর গ্রহণের বয়সও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে পলিটব্যুরো (Politburo)। বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে এই বয়সসীমা বাড়ানো হবে। এই বিষয়টিকেও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের জন্ম-হারকে পুনরুদ্ধার করতেই এমন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

আসলে, সম্প্রতি চিন তার জনসংখ্যার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, গত দশকে বিশ্বের মধ্যে চিনে শিশুদের গড় জন্মহার সবচেয়ে কম ছিল। এর মূল কারণ হিসাবে দায়ি করা হয়েছে চীনের কঠোর সন্তান নীতিকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে চিনে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ। যেখানে ২০০০ এবং ২০১০-এর মধ্যে এই গতি ছিল ০.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত দুই দশকে চিনে জনসংখ্যার গতি ক্রমেই হ্রাস পেয়েছে। ১৯৬০- এর পরে, চিনে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যাও সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭০-এর দশকে জনসংখ্যার (Population) ক্রমবর্ধমান গতিতে রাশ টানতে চিনের চালু করা হয়েছিল একটি শিশুর নীতি (One Child Policy)। জনসংখ্যার গতি কমতে থাকায় ২০০৯ সালে চিন এক সন্তান নীতির পরিবর্তন করে এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন দম্পতিকে দুটি সন্তানের জন্ম দেওয়ার স্বাধীনতা দেয়। কিন্তু খরচের আশঙ্কায় অধিকাংশ দম্পতি সেই নীতির দিকে ঝোঁকেননি। এবার তিন সন্তানের অনুমতি কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শর্টলিংকঃ