গ্রাম পুলিশের অভিমান

গাইবান্ধায় নিম্নমানের বাইসাইকেল ফিরিয়ে দিয়েছেন গ্রাম পুলিশরা।তাদের অভিযোগ বাইসাইকেলগুলো নি¤œমানের হওয়ায় তা না নিয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে গাইবান্ধার ৮১ ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ৮১০ জন গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) পোশাক ও সরঞ্জামাদি বিতরণের জন্য ১ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দে গত ১৬ ফেব্রæয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। মালামাল সরবনাহে কার্যাদেশ পান ঠিকাদার নজরুল ইসলাম।

সিডিউল অনুযায়ী পুরুষদের ৭৯০টি ও মহিলাদের ২০ টি ভারতীয় -বিএসএ/ হিরো/ দুরন্ত বাংলাদেশী সাইকেল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার নজরুল হক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে নিম্নমানের বাইসাইকেল তৈরি করে হিরো স্টিকার লাগিয়ে বিতরণের চেষ্টা করেন।

গাইবান্ধা গ্রাম পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (ভাপ্রোপ্ত) সন্তোষ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান,“গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদর উপজেলার গ্রাম পুলিশদের মাঝে বিতরণ করার সময় এসব নিম্নমানের বাইসাইকেল নিতে তারা অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাই সাইকেল বিতরণ স্থগিত করা হয়।”কিন্তু এর ৯ দিনের মাথায় পলাশবাড়ীর হোসেনপুর ইউনিয়নের ১০ জন গ্রাম পুলিশের হাতে এ নিম্নমানের বাই সাইকেল তুলে দেয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে এই ১০ জন গ্রাম পুলিশ নিম্ন মানের বাই সাইকেল পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন.“ বাইসাইকেল গুলোর উপরে পেচানো হিরো জেট লেখা থাকলেও হ্যান্ডেল,প্যাডেল,বেল,ক্রাং,চাকা ও সীট বিভিন্ন কোম্পানির। এখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রমান হোসেনপুর ইউনিয়নের ১০ গ্রাম পুলিশের ঘরে।

এ প্রসঙ্গে, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোছা. রোখছানা বেগম বলেন,“বিতরণ করার জন্য নয়, তাদেরকে সাইকেলগুলো দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কাছে জমা দেয়া নমুনার সাথে মিল না থাকায় ঠিকাদারের কাছ থেকে সরবরাহ নেওয়া হয়নি। তবে ঠিকাদার নজরুল হক এ অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “একটি স্বার্থনেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

শর্টলিংকঃ