গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে চলছে নানা ষড়যন্ত্র

গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব নিয়ে সম্প্রতি কতিপয় ব্যক্তির হাস্যকর কর্মকান্ডে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের মন্তব্য চলছে । এ ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত কর্মকান্ডের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ভাবে প্রকৃত ও সত্য ঘটনা সকলের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হলো।

প্রথম পর্ব
গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব একটি অরাজনৈতিক পেশাজীবি সংগঠন। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটির নিজস্ব গঠনতন্ত্র রয়েছে । প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই সংগঠনটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ গঠন করে আসছে। নির্বাচনে কেউ জিতেছে আবার কেউ হেরেছে। এভাবেই ১৪টি সেশন ৩১ বছর পার করেছে গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ। ২০১১ সালে নির্বাচনে প্রেসক্লাবের ১৫ জন সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ২০১১-১২ ইং সেশনের কাযনির্বাহী পরিষদ গঠন করে।

এ নির্বাচনে সভাপতি পদে কৃষ্ণ কুমার চাকী ও সাধারণ সম্পাদক পদে রবিউল কবির মনুকে পরাজিত করে জাহিদুর রহমান প্রধান টুকু ও তাপস দেব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য পরবর্তীতে ২০১৩-১৪ সালে সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটিকে জোর করে সরিয়ে দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকেই শুরু হয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। আর একাজে হাত মেলায় প্রেসক্লাবেরই কতিপয় ক্ষমতালিপ্সু সদস্য।

গঠনতন্ত্রকে পদদলিত করে কৃষ্ণ- মনুর নেতৃত্বে তাদের ইচ্ছে মতো কমিটি গঠন করে প্রেসক্লাবটিকে প্রভাবিত সংগঠনে পরিণত করা হয়। এ সময় সাংবাদিক ঐক্যের ডাক দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করার পর অন্তর্ভুক্তকৃতদের মধ্য থেকে অপছন্দের সদস্যদের বহিস্কারের মাধ্যমে তারা নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করে নেন।

এমনি এক পরিস্থিতিতে গোপাল মোহন্ত ও জাহিদুর রহমান প্রধান টুকু’র নেতৃত্বে মূলধারার সাংবাদিকবৃন্দ প্রেসক্লাবের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। গঠিত হয় গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২০১৯-২০২১ইং সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি। এতে গোপাল মোহন্ত সভাপতি, জাহিদুর রহমান প্রধান টুকু সাধারণ সম্পাদক ও এসএম কবির রাসেল সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে করোনাকালিন সময়ের মধ্যেও সাহসিকতার সাথে এ কমিটি সফলতার মধ্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।

এ বছর কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হলে গঠনতান্ত্রিক উপায়ে গত ২০/০৫/২০২১ ইং তারিখে বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে পূনরায় গোপাল মোহন্তকে সভাপতি, জাহিদুর রহমান প্রধান টুকুকে সাধারণ সম্পাদক ও এসএম কবির রাসেলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২০২১-২০২৩ ইং সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবের কতিপয় সদস্য পূর্বের সদস্যপদ হারানো কয়েকজন ক্ষমতালিপ্সু সাংবাদিক এবং বহিস্কৃত সদস্যদের নিয়ে হাস্যকর কিছু কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যা শুধু হাস্যকরই নয়- নির্বুদ্ধিতাও বটে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন প্রেসক্লাব নিয়ে এ ধরণের কোন তৎপরতা কেউ দেখেনি। গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাব শুরু থেকেই প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদ অন্তর্ভুক্ত করে আসছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট যে কেউ আবেদন করতে পারবেন এবং যথা নিয়মেই তিনি প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নেই। এর পরেও একটি মহল প্রেসক্লাব নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছেন- যা কোনভাবেই সমীচিন নয়।  তথ্যসূত্র : https://www.facebook.com/gobindagonj.pressclub  থেকে সংগৃহীত।

শর্টলিংকঃ