গোবিন্দগঞ্জে মলমপার্টির ২ সদস্যর আদালতে জবানবন্দি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মলমপার্টি চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে।বুধবার বিকালে এ চক্রের আটক চার সদস্যর মধ্যে দুইজন অপরাধ স্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দন্ডবিধি আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।জবানবন্দি গ্রহন শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতরা হল-উপজেলার কুমিড়াডাঙ্গা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আব্দুর রশিদ (২৭), খোর্দ্দ গোপালপুর গ্রামেরআব্দুল লতিফের ছেলে ইসাহাক আলী (২৮), কুমিড়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আমিরুল ইসলাম ওরফে পঁচা (২৮) ও শ্রীপতিপুর (হরিবাসরপাড়া) গ্রামের মৃত কাণ চন্দ্রের ছেলে সুব্রত কুমার (২৯)।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অলোকা রানী (৪২) নামে এক গৃহবধূ শ্বাশুড়ি ইন্দু বালাকে (৭০) সঙ্গে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি গাইবান্ধা সদরের খোলাহাটি গ্রাম থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাবিরাট গ্রামের বাবার বাড়িতে আসছিলেন।বেলা ৩টার দিকে তারা গোবিন্দগঞ্জ থানা চৌমাথায় বাস থেকে নেমে একটি অটোভ্যানে ওঠে রাজাবিরাটের দিকে রওনা দেন।এ সময় ওই অটোভ্যানে যাত্রীসেজে মলমপার্টির ৩ সদস্য ওঠে।পথিমধ্যে মলমপার্টির সদস্যরা চেতনা নাশক বিষ প্রয়োগ করলে তারা জ্ঞানহীন হয়। পরে তারা অলোকা রানীর গলায় থাকা ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন মালা ও ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল এবং দুই হাতে থাকা দেড়ভরি ওজনের স্বর্ণের বালাসহ মোট দুইভরি ৮আনা ওজনের স্বর্ণালংকারসহ নগদ দুইশ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং পুত্রবধূ ও শ্বাশুড়িকে অচেতন অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে সটকে পড়ে।

অলোকা রানী জানান, এ সময় তিনি অর্ধ-অচেতন অবস্থায় শ্বাশুড়িকে নিয়ে অন্য একটি ভ্যানযোগে বাবার বাড়িতে পৌছেন।পরে সুস্থ্য হয়ে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় থানায় ওই চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ জানায়,এ ঘটনায় একটি ক্লিনিকের ভিডিও ফুটেজের সুত্রধরে বুধবার দুপুরে পৌর শহরের ডেসকো বিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে মলমপার্টির সদস্যদের আটক করা হয়।পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় আটককৃতদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহনের আবেদনসহ গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

শর্টলিংকঃ