গোবিন্দগঞ্জে বিভক্ত আ.লীগ, স্বস্তিতে বিএনপি

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচণী প্রচারণা। শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলছে নির্বাচণী ঝড়। নির্বাচনকে সামনে রেখে গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরসহ পৌরসভার সমস্ত অলিগলি এখন সাঁজ সাঁজ রব।

অনেকে আবার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সব ধরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। উঠান বৈঠক, চা-চক্র ও কুশলাদি বিনিময়সহ সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন মানুষের কাছে।ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলাকায় প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার শোভা পাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই স্পষ্ট হচ্ছে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ।ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদেও বাড়ীতে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রাণীর অভিযোগ উঠছে।বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, এসব কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে অনেকটাই নীরবে এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রার্থী।

নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ভোটারদের মন জয় করতে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কে,এম খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে ৬নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর দোলন নন্দির মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনসহ পরপর ৩ বারের সফল কাউন্সিলর ছিলেন।একই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীকে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সহসভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের শ্যালক।

এদিকে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে পৌর বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি পরপর তিনবার পৌরনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেখানে প্রতিবারই সম্মানজনক ভোট পেয়ে এবার দলীয় নেতা-কর্মীদের ত্যাগে অনেকটা উৎফুল্ল।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন আনিসুর রহমান। তারা তাদের দলীয় আদর্শ পৌরবাসীর সামনে তুলে ধরছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রচারণায় অনেকটাই ম্লান রয়েছেন এ প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

অপরদিকে, এবারই প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোবাইল ফোন প্রতীকে লড়ছেন অ্যাডভোকেট আর্নিকা। ভোটের মাঠে তিনি খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছেন না। তৃতীয় ধাপে এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৯৮১। ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শর্টলিংকঃ