গাইবান্ধার ঠিকাদার শেলীর ওপর হামলা

গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত এস.এম সাখাওয়াত হোসেন শেলীকে বেধড়ক মারপিট, টাকা ছিনতাই এবং তার বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও পরিবারের সদস্যদের জীবননাশের হুমকি দেয়ায় শেলী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সন্ত্রাসীদের লাগাতার হুমকিতে তার দুই সন্তান সাব্বির হোসেন প্রান্ত ও সাফায়েত হোসেন অন্ত ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না। এমনকি কোচিং সেন্টারে যেতে না পারায় করোনার এই সময়ে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে খালেদ হোসেনকে আসামী করে সদর থানায় মামলা করলেও গ্রেফতার না হওয়ায় সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে শেলী ও তার স্বজনদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। রোববার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শেলীর স্ত্রী ও সন্তানরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার প্রতিকারসহ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসী খালেদ হোসেনকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাখাওয়াত হোসেন শেলীর স্ত্রী সেলিনা আকতার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন থেকে তার স্বামী শেলীকে বিনা কারণে পথে-ঘাটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল শহরের থানাপাড়ার মৃত-হাজী মোজাহার আলীর ছেলে মো. খালেদ হোসেন। এরই জের ধরে গত ৭ই মার্চ রাতে ঠিকাদারি সাইট থেকে শেলী ও তার ছোট ভাই সোহেল রিক্সাযোগে বাড়ি ফেরার পথে কলেজ হোস্টেল রোডে বলাকা ভবনের সামনে খালেদের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার উপর রিক্সার গতি রোধ করে খালেদ হোসেন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে।

এ সময় শেলীর পকেটে থাকা ৫৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি জেলা হাসপাতলে চিকিৎসা নেন। এদিকে, ওই রাতেই সদর থানার এস.আই শফিকুলকে সাথে নিয়ে খালেদ হোসেনের সন্ত্রাসী দলবল তল্লাশির নামে বাড়ি-ঘর তছনছ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শেলীর শ্বশুর সাখাওয়াত হোসেন, শ্যালিকা শারমিন আকতার শিল্পী, ছেলে এসএম সাব্বির হোসেন প্রান্ত ও সাফায়েত হোসেন অন্ত।

শর্টলিংকঃ