গণধর্ষণের দায় স্বীকার করে সোহেলের জবানবন্দি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বান্ধবীর বাড়ীতে বেড়াতে এসে এক গামেন্টর্সকর্মীকে গণধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল মিয়া (৪০)। গাইবান্ধার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোহেল মিয়া পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ভগবানপুর গ্রামের করিম মিয়ার ছেলে। গোবিন্দগঞ্জ থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে  জানান, এর আগে দিঘিরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে হাজির করা হয়।

নির্যাতিত কিশোরী জানান, তার বাড়ী বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার পূর্ব বাদশালা গ্রামে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দিঘিরহাট চক মানিকপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে আদুরী বেগম তার স্বামীসহ ঢাকার নারায়ণগঞ্জে ভাড়া বাসায় থেকে গামেন্টে কাজ করেন। একই বাসায় ভাড়া থেকে সেও গার্মেন্টে কাজ করেন। একই বাসায় থাকার কারণে আদুরীর সাথে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়। গত ২৭ অক্টোবর আদুরী বেগম তার বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ওই কিশোরীকে নিয়ে আসেন। সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করায় আদুরীর সম্পর্কের দুলাভাই সোহেলের সাথে ওই কিশোরীর সখত্য হয়।

গত শুক্রবার সকালে সোহেল ঢাকার গাড়ীতে তুলে দেয়ার কথা বলে দিনভর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে রাতে অজ্ঞাত স্থানের একটি কলা বাগানে নিয়ে যায় সেখানে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সোহেলসহ পূর্ব থেকে অপেক্ষমান ৪/৫ জন মিলে সংঘবদ্ধ ভাবে তাকে ধর্ষণ করে। পরে ওই রাতে উপজেলার বালুয়া বাজার বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে ওই নির্যাতনের শিকার কিশোরীকে ফেলে রেখে চলে যায় তারা। পরে শুক্রবার মধ্যরাতে স্থানীয়দেও খবরের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনা স্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।

শর্টলিংকঃ