খুলনায় বিএনপি নেতার কান্ড: দেনার দায়ে গুমের নাটক

খুলনায় দেনার দায়ে গুমের নাটক বিএনপি নেতার

খুলনা: খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোড়লকে কেউ অপহরণ বা গুম করেনি। ১৫ লাখ টাকা দেনার দায়ে তিনি কক্সবাজারের রামুতে আত্মগোপন করেছিলেন।

শুক্রবার (০৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে নজরুল এ স্বীকারোক্তি পেশ করেন। এর আগে দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক রওশন আরা রহমানের কাছে নজরুল একইভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, ১৭মার্চ নজরুল যশোরের কেশবপুর হয়ে ঢাকায় যায়। পরের দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের রামুতে যায়। রামুতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকতো নজরুল। ইতোপুর্বে গ্রেফতার হয়ে খুলনা কারাগারে থাকাকালীন সাইফুলের সাথে পরিচয় হয় নজরুলের।

পুলিশ সুপার বলেন, নজরুল কক্সবাজারে গিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে নতুন মোবাইল ও সীমকার্ড ব্যবহার শুরু করে। সেখানে গিয়ে সে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে। পলাতক থাকা অবস্থায় একদিন কক্সবাজার পুলিশের সন্দেহ হলে নজরুল কোথা থেকে এখানে এসেছে এবং কি করে জানতে চায়। নজরুলের কথাবার্তা এলোমেলো মনে হয় পুলিশের। একপর্যায়ে খুলনার ডুমুরিয়ায় যে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতো নজরুল সেই মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষককে ফোন করে নিশ্চিত হয় তার বাড়ি খুলনায়। খুলনার ডুমুরিয়ার ওই শিক্ষকের কাছে করা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় নজরুল রামুতে আছে। পরবর্তীতে কক্সবাজার পুলিশের সহায়তায় খুলনা জেলা পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে রামু থেকে বিএনপি নেতা নজরুলকে উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এস এম শফিউল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) সজীব খান, ডিবি’র ওসি শিকদার আক্কাস আলী ও ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন।

উল্লেখ্য, ১৭মার্চ বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল। স্বামী নজরুলের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতে স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। পরের দিন জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নজরুলকে গুম করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।  সংবাদ সম্মেলনে খুলনা জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেছিলেন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দমন পীড়ন বেড়েছে। এ অবস্থায় নজরুল নিখোঁজ থাকায় তারা শংকা প্রকাশ করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে নজরুলের স্ত্রী তানজিলা বেগম তার স্বামী নজরুল ইসলাম মোড়লকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ফেরত দেয়ার দাবি জানান।

শর্টলিংকঃ