২৫ হাজার কৃষকের স্বপ্ন কেঁড়ে নিয়েছে বন্যা

আর কয়েক দিন পরই এ উপজেলার কৃষকেরা সেই মন কেঁড়ে নেয়া বাউল গানের তালে তালে কাটতো মাঠের সোনালি ধান। কিন্তু সবই কেড়ে নিয়েছে বন্যার পানি। সেই সঙ্গে ডুবেছে কৃষকের স্বপ্নও।

একদিকে প্রাণঘাতী করোনার ছোবল। তারই ওপর বন্যার ধকল। সব মিলিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়েছেন এ উপজেলার কৃষকরা। বিশেষ করে চতুর্থ দফা বন্যায় ফসল হারিয়ে কৃষক একেবারই দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক এখন ছুটছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত ১৩টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৭৮০ হেক্টর ধানের ফসলি জমি ও ২১০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেতসহ প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের দক্ষিণ পোগইল, তালুককানুপুর ইউনিয়নের কমল নারায়নপুর, ছয়ঘড়িয়া ও মথুরাপুরসহ ৫টি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বিরাণভূমি। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই বন্যার জমে থাকা পানিতে ফসলের ক্ষেত পচে গেছে। পানি একটু একটু করে নেমে যাচ্ছে আর কৃষকের মন ঠিক ততটাই কষ্টের সাগরে ডুবিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলার মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ, হরিরামপুর, দরবস্ত, ফুলবাড়ী, সাপমারা,কাটাবাড়ী ইউনিয়নের কতোয়ার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর কমবেশি একই অবস্থা। কামারদহ ইউনিয়নের সবজি চাষি আয়নাল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ক্ষেত পানির নিচে রয়েছে। ক্ষেতের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেতগুলো মরে যাচ্ছে।

হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী সরকার জানান, বন্যার পানি ধীরগতিতে নেমে যাওয়ার কারণে আমন ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একই কথা বলেছেন রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া উস শামস চৌধুরী জিম।

উপজেলা কৃষি অফিসার খালেদুর রহমান জানান, কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এখনো কোন প্রনোদনা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তার পরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রনয়নের কাজ করা হচ্ছে। এ উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার কৃষক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

শর্টলিংকঃ