এবার গাইবান্ধার ৫৮২ মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা গাইবান্ধা জেলায় সুষ্ঠুভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রোববার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেড কোয়াটার্স মো. আবু খায়ের, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীর, সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়া খান বিপ্লব, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি কেএম রেজাউল হক, জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রনজিৎ বকসী সুর্য্য, সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার পাল, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ জেলা সভাপতি পরেশ চন্দ্র ঘোষ, সদর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজন প্রসাদ, সুন্দরগঞ্জের নিমাই ভট্টাচার্য, গোবিন্দগঞ্জের তনয় কুমার দেব, পলাশবাড়ির দিলীপ কুমার সাহা, সাঘাটার গৌতম কুমার চন্দ্র, ফুলছড়ির অশ্বিনী বর্মন, সাদুল্যাপুরের প্রভাত চন্দ্র অধিকারী প্রমুখ।

সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, এবার জেলার সাতটি উপজেলার ৫৮২টি মন্দির ও পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৮৩টি, সাদুল্যাপুরে ১শ’ ০৩ট, সুন্দরগঞ্জে ১শ’ ৩০টি, পলাশবাড়িতে ৫৯টি, গোবিন্দগঞ্জে ১শ’ ১৬টি, সাঘাটায় ৫৬টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৫টি।

কোভিড-১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার সীমিত পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবার ৮মী পূজার দিন দুপুর ১২টা ১ মিনিটে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার শান্তি এবং যারা অসুস্থদের রোগ মুক্তি কামনা করে জেলার সকল পুজা মন্ডপে একযোগে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কোভিড-১৯ দুর্যোগের কারণে জেলা পুজা উদযাপন পরিষদ জেলার সকল পূজা মন্ডপে বিশেষ আলোকসজ্জা, মাইক সাউন্ড সিস্টেমে গান-বাজনা বন্ধ এবং আরতি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এবার পূজার দর্শনার্থীদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি পূজা মন্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর থেকে ৬ষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পূজার কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২৬ অক্টোবর বিজয় দশমী উদযাপিত হবে। তদুপরি দশমীর দিন সন্ধ্যা ৬টার আগেই অবশ্যই কোন শোভাযাত্রা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন দেয়ারও সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। এছাড়াও পূজা সংক্রান্ত মেলা অনুষ্ঠান, জুয়া খেলা, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।

এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে র‌্যাব, ফায়ার বিগ্রেড, পুলিশ, আনসার, জেলা উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ টিম, পুজা মন্ডপ সমূহের আইন শৃংখলা রক্ষায় সার্বক্ষনিক নজরদারি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পূজা মন্ডপ সংলগ্ন যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, ভূমি বিরোধপূর্ণ স্থানে পুজা মন্ডপ স্থাপন না করা, পুজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি মন্ডপ ও মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।

শর্টলিংকঃ