ইউএনওর হস্তক্ষেপে বেতন পেলেন সেই দুই নারী শিক্ষক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র দুইজন নারী শিক্ষক দীর্ঘ ১০ মাস পর বেতন পেলেন।গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু সাঈদ এর কঠোর হস্তক্ষেপে আজ বুধবার তারা এ বেতন ভাতা পান।

ওই দুই নারী শিক্ষক হলেন- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিরামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক -১, মোছাঃ মাখসুদা বেগম ও জ্যৈষ্ঠ শিক্ষক-২. মোছাঃ চামেলি বেগম।

শিক্ষকদ্বয় জানান, তারা ১০ মাস ধরে বেতনভাতা না পাওয়ায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হন।এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পারভেজ আলম জানান, ইউএনওর নির্দেশে তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য চিঠি ইস্যু করেন।কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থ্যতার কারনে তদন্তের জন্য দীর্ঘ সময়ের আবেদন করেন।ফলে তদন্ত করা সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ওই দুই শিক্ষককে বেতনভাতা দেয়ার জন্য ইউএনও’র দপ্তরে প্রতিবেদন দেন তিনি।

ইউএনও আবু সাঈদ জানান, এরই প্রেক্ষিতে তিনি গত সোমবার প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামসহ উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে বৈঠক করা হয়।বৈঠকে প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আকতারুল ইসলাম ওই দুই শিক্ষকের বকেয়া সমুদয় বেতন ভাতা দিতে সম্মত হন এবং তাৎক্ষনিক বেতন সিটে তাদের সাক্ষর নেন।

‘সোনালি ব্যাংক লিমেটেড’ গোবিন্দগঞ্জ শাখার ম্যানেজার রিপন কুমার জানান, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের সাক্ষরিত বিল মঙ্গলবার দুপুরে হাতে পেয়েছি। ব্যাংকের কার্যক্রম শেষে আজ তাদের নিজ নিজ একাউন্টে টাকা জমা করা হয়।ওই দুই শিক্ষক (মাকসুদা বেগম ও চামেলি বেগম) জানান,আজ বেলা ৩টার দিকে ব্যাংক থেকে বকেয়া সমুদয় বেতন ভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।বকেয়া বেতন-ভাতা পেয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

প্রসঙ্গত, প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলামের জ্যৈষ্ঠতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষক মাখসুদা বেগম বাদি হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ৬১৮৪/২০ দায়ের করেন।উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) খতিয়ে দেখছেন।এ নিয়ে মনোমালিন্যর কারনে তারা দীর্ঘদিনেও বেতন ভাতা পাননি।

শর্টলিংকঃ