ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় কারাগারে দিহান

ধানমন্ডি মাস্টার মাইন্ড স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নুর আমিনকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তানভীর ইফতেফার দিহান (১৮) দায় স্বীকার করে আদালতে  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আজ শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান।আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, আনুশকার বন্ধু দিহানকে একমাত্র আসামি করে তার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমাদেরও ধারণা, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও তেমন রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কারণ, ধর্ষণের পর তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে আটক দিহানের তিন বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এর আগেও  জিজ্ঞাসাবাদে দিহান পুলিশকে জানায়, ধর্ষণের পরিকল্পনা আগেই করা ছিলো। বন্ধু হলেও দুজনের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন হয়নি। মাত্র তিন মাস হলো উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। গ্রুপ স্টাডির নাম করে আনুশকাকে ফোন করে কলাবাগান লেক সার্কাসের একটি বাসায় ডেকে নেয় দিহান। দুপুর ১২ টা থেকে একটার মধ্যে জোরপূর্বক আনুশকাকে ধর্ষণ করে দিহান। দুপুর একটার দিকে আনুশকার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কয়েকজন যুবক ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্কুলছাত্রীর সঙ্গীরা দাবি করে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে সে মারা গেছে। তবে মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেছেন, তাকে পান্থপথের ডলফিন গলির একটি বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইফতেখার ফারদিন দিহানকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ২ ধারায় বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেন।

শর্টলিংকঃ