অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত রাবি ক্যাম্পাস

হাফিজুর রহমান পান্না :  শীতের আগমন ঘটেছে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। শীত শুরু হয়েছে কুয়াশা পড়ছে, শীতের প্রভাবে, নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের সন্ধানে প্রতি বছরের মতো এবারও ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশি-বিদেশি নানা জাতের এসব পাখির ভিড়ে রাবি ক্যাম্পাস যেন পাখিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে হিমালয়ের উত্তরে প্রচন্ড শীত নামতে শুরু করে। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, জিনজিয়াংসহ চীনের নানা শীতার্ত এলাকা, নেপাল ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হয়। তুষারপাতের ধকল সইতে না পেরে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে আসে। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে সেসবের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক পাখি লোকগুলোতে আসে সাইবেরিয়া থেকে। বর্তমানে যেসব পাখি দেখা যাচ্ছে সেগুলো এসেছে নেপাল ও ভারতের হিমালয় এবং বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে আসছে অতিথি পাখি। খালেদা জিয়া হলের পেছনের পুকুর, তাপসী রাবেয়া এবং রহমতুন্নেছা হলের পেছনের চামপচা পুকুর, শামসুজ্জোহা হলের পাশের পুকুর ও বধ্যভূমির পাশের পুকুরসহ ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি জলাশয়ে আসর বসিয়েছে অতিথি পাখিরা। ক্যাম্পাসের আকাশজুড়ে পাখিরা উড়ে বেড়াচ্ছে আর জলকেলিতে মেতে উঠছে। পাখিদের কলকাকলি, ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ আর খুনসুটিতে মুখর হয়ে উঠছে পুরো ক্যাম্পাস।

এক ধরনের পাখি ডাঙায় বা শুকনো স্থানে বা ডালে বসে বিশ্রাম নেয়। আরেক ধরনের পাখি পানিতে থাকে ও বিশ্রাম নেয়। এদের বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়। এ ক্যাম্পাসে যে সব পাখি আসে সেসবের মধ্যে বেশির ভাগ ছোট সরালি। আর বাকি অল্প সংখ্যক অন্য প্রজাতির। এদের মধ্যে রয়েছে, বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি। যেহেতু শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখিরা আসে, তাই এসময় নৈসর্গীক প্রকৃতির রাবি ক্যাম্পাস অপেক্ষা করতে থাকে তাদের জন্য।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তরুন দেব বলেন, ‘সকাল বেলা ক্যাম্পাসে হাঁটতে বের হলে অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করে। আর শীতকালে অতিথি পাখিদের ডুবসাঁতার দেখার মজাই আলাদা। অতিথি পাখিরা আসাতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেছে।’

পাখি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আমিনুজ্জামান মোঃ সালেহ্ রেজা বলেন, ‘রাবি ক্যাম্পাস পাখিদের জন্য উপযুক্ত একটি আবাসন। এখানে পাখিদের কেউ বিরক্ত করে না। পাখিরা সময় হলেই চলে আসে ক্যাম্পাসে এখানে তাদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও প্রজনন ব্যবস্থা। পরিয়ায়ী পাখিরা ক্যম্পাসে আসতে শুরু করে অক্টোবরের দিকে তারা মার্চ পর্যন্ত থাকে। কালো মানিক জোড়, ধলা মানিক জোড়, সরালি পাখি বেশির ভাগ আসে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাখিদের আগমন ঘটে রাবি ক্যম্পাসে। পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও প্রজনন ব্যবস্থা থাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে পাখিরা ক্যম্পাসে আসে। পাখিদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা সতর্ক আছে।

শর্টলিংকঃ